পবিত্র হজ পালনের উদ্দ্যেশে এরিমধ্যে বাংলাদেশের মুসল্লিরা সৌদি আরবে উড়ে যেতে শুরু করেছেন। চালু হয়ে গেছে হজ ফ্লাইট। সৌদি সরকারও হজ যাত্রীদের স্বাগত জানাচ্ছেন মহাসমারোহে। হজ যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিতে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এবার বিশেষ আয়োজন অনেক বেশি রেখেছে আয়োজকরা।
সৌদি আরবে যাওয়া মুসল্লিদের জন্য অনন্য সুবিধা দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যেই এক সৌদি কোম্পানি জানিয়েছে, হজ মৌসুমে হাজিদের মধ্যে তারা আব-এ-জমজমের চার কোটি বোতল বিতরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
আল জামেজিমাহ নামের ওই কোম্পানির বোর্ড মেম্বার ইয়াসের বলেছেন, এ বছর প্রত্যেক হাজির জন্য ২২ বোতল পানি বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, হাজিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সেগুলো দেয়ার জন্য একটি ডিজিটাল পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন তারা। যার মধ্যে রয়েছে একটি বারকোড সেবা।
যেটি বোতলের ওপর প্রদর্শিত থাকবে। এটির মাধ্যমে পানির অর্ডার এবং সেগুলো সরবরাহ করা হবে। সব হাজির মধ্যে এসব পানির বোতল যেন সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা যায় সেজন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
এই কর্মকর্তা জানান, তাদের মূল কার্যক্রম হবে মক্কা শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল এবং মক্কার প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্টগুলোতে। জমজমের পানি বিদেশি হাজিদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। কারণ তারা এগুলো নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের উপহার হিসেবে দিয়ে থাকেন।
এ বছর হজ করার জন্য ইতিমধ্যে মুসল্লিরা সৌদিতে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার হজ হতে পারে ১৪ জুন। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর হজ করবেন ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। গত বছর ১৮ লক্ষ মুসল্লি হজ করেছিলেন । আয়োজকরা বলছেন, এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, জমজম কূপ মক্কায় মসজিদুল হারামের ভেতরে অবস্থিত। এটি কাবা থেকে ২০ মিটার (৬৬ ফুট) পূর্বে অবস্থিত। এর জীবাণুমুক্ত পানি মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে বিতরণ করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে জমজমের পানি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অন্য দেশ থেকে যারা সৌদি আরবে ওমরাহ ও হজ পালন করতে যান, তারা দেশে ফেরার সময় জমজমের পানি কিনে নিয়ে যান। এই পানি সাধারণত তারা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের উপহার দিয়ে থাকেন। অনেকের বিশ্বাস, জমজমের পানির বিশেষ গুণ রয়েছে। এই পানি পানে মুক্তি মেলে রোগ-বালাই থেকে।