ইরানে কি আবারও ফিরছে পরিবারতন্ত্র?

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি দেশটির এমন একজন নেতা যার মৃত্যু মানতেই পারছেন না মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম মানুষ। এই নেতার মৃত্যুতে নানা ঘটনা-রটনা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সামনে আসছে। কখনো রাইসির হেলিকপ্টার, কখনো যুক্তরাষ্ট্র, কখনো মোসাদ, আবার কখনও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই নিয়েও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য-খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তবে এবার প্রকাশ্যে নতুন এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। 

রাইসির মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানেরই একটি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। সেখানে বলা হয়েছে, রাইসির মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিকমাধ্যম জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে জল্পনা কল্পনা। আর তারা রাইসির মৃত্যুর জন্যে আঙুল তুলছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনির দিকে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাবার উত্তরসূরির দৌড়ে তিনিই এগিয়ে।

iran33

সেই সঙ্গে দেশটির অনেকেই মনে করেন, ইরানের ক্ষমতাবলয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ কারণে ইরানের রাজনীতিও তুমুল ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করছেন অনেকে। এমনকি ইরানের বেশিরভাগ মানুষই এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ বলেও বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করা হচ্ছে। ইরানি জনগণের একটি অংশ মনে করেন, রাইসির মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা কোন দিনই জানা যাবে না।

আমির হুসাইন নামে একজন বলেছেন, আনুষ্ঠানিক বিবৃতির কোন প্রয়োজন নেই। সবাই জানে তারা মিথ্যেই বলবে। তারা তখনও মিথ্যে বলেছে, এখনও বলছে। তারা আসলে সত্যিটা বলতেই পারবেনা। রাইসির মৃত্যুর অনেক ঘণ্টা পর তারা বহু পুরনো একটি দুর্ঘটনার ছবি প্রকাশ করেছে। কারণ আসল ছবি প্রকাশ করলেই তো বিশেষজ্ঞরা বুঝে ফেলবে যে এটা কোন দুর্ঘটনাই ছিলোনা। 

iran44

শুধু ইরানই নয়, হামবুর্গের থিংকট্যাংক জার্মান ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যান্ড এরিয়া স্টাডিজের ইরান বিশেষজ্ঞ সারা বাজোবান্দি বলেছেন, এখন এ বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের অনুমান ও অসমর্থিত প্রতিবেদন সবার সামনে আসতে থাকবে। দুর্ঘটনার কারণ যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে, অন্তর্ঘাতও হতে পারে। এমন কী, এ ঘটনায় রাইসির রাজনৈতিক পরিধির মধ্যে থাকা কারো হাতও থাকতে পারে। কিছুই উড়িয়ে দেয়া যায় না। 

বর্তমানে বহুল চর্চার বিষয় হচ্ছে সবোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির উত্তরাধিকারী কে হবেন? ইরান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যে দুইজনের নাম নিয়ে আলোচনা হতো, তার মধ্যে একজন ছিলেন রাইসি এবং অন্যজন আলি খামেনির ছেলে ৫৫ বছর বয়সী মোজতাবা, যিনি পর্দার পেছন থেকে এতদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে অনেকের মতে, মোজতাবা সর্বোচ্চ নেতা হলে ইরানের একটা বড় অংশ খুশি হবেন না। 

iran22

আবার কেউ কেউ বলছেন, এতে বিক্ষোভও দেখা দিতে পারে। ইরানের নেতৃত্ব স্থানীয়দের মধ্যে পারিবারিক শাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শাহের শাসনকে উৎখাত করার সময় ইসলামি বিপ্লবীরা পারিবারিক শাসনের বিরোধিতা করে ছিলেন। কিন্তু এখন, রাইসির মৃত্যুতে খামেনির উত্তরসূরি হওয়ার পাশার দান উল্টে গেছে। মনোযোগ মোজতবার ওপর ফিরে এসেছে।

রাইসির মৃত্যুতে মোজতাবা খামেনির জন্য বাবার উত্তরসূরি হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু ইরানের ধর্মীয় ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়টি রহস্যজনক। এই সিদ্ধান্ত এখন দেশটির জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাদের একটি কাউন্সিলের হাতে। মোজতাবা নিজেও একজন ধর্মীয় নেতা। তিনি দেশটির ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়। এখন এই কাউন্সিল তাদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেবেন, নাকি সবাই যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, সেটির জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে।