হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের প্রথম দোষী সাব্যস্ত

হংকংয়ের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুইটি অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পেয়েছে আদালত। এ আইনে শাস্তি পাওয়া প্রথম ব্যক্তি হবে তিনি। 

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) টং ইং কিত নামের ওই ২৪ বছর বয়সী যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে দেশটির আদালত। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) তার শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। 

টং ইং কিতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত বছর আন্দোলনের সময় একদল পুলিশের উপর মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেওয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়।  

এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ওই আন্দোলনের সময় সরকার বিরোধী স্লোগানযুক্ত ব্যানার বহন করছিলেন। 

ওই ব্যানারে লেখা ছিল, 'হংকং স্বাধীন করো। এ যুগের বিপ্লব'। এ স্লোগানের পটভূমি আর অর্থ নিয়ে আদালতে ব্যাপক আলোচনা হয়। 

আরও পড়ুন: ভারতে দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত

অবশেষে ১৫ দিনের ট্রায়াল শেষে টংকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারক প্যানেল। তারা বলেন, ওই স্লোগান দিয়ে টং বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দিয়েছেন।

হংকংয়ের শাসককর্তৃক নির্বাচিত তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল টংয়ের বিচার করেন। গত বছরের জুনে কার্যকর হওয়া জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে এটি প্রথম বিচারকাজ। সামনের দিনগুলোতে এই আইনের প্রয়োগ আর ব্যাখ্যা কীরকম হতে পারে তার লিটমাস টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে এই মামলাকে। 

জাতীয় নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী, ধ্বংসাত্মক, সন্ত্রাসবাদী অথবা বিদেশিদের সাথে যোগসাজশমূলক কার্যক্রমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, এসব অপরাধের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্কিত হয়েছে এ আইন ও হংকং সরকার। 


ছবি: গার্ডিয়ান

একাত্তর/এসজে