বিষাক্ত মদ পান করে ভারতের তামিলনাড়ুতে ৩০ জন মারা গেছেন। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও শতাধিক মানুষ।
বৃহস্পতিবার রাজ্যটির কাল্লাকুরুচি জেলার জেলাশাসক এম.এস প্রশান্ত এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃতদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছে। ইতোমধ্যেই মরদেহগুলো ময়নাতদন্তও করা হয়েছে।
বিষাক্ত মদ বিক্রির অভিযোগে গোবিন্দরাজ ওরফে কান্ডুকুটি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে তামিলনাড়ুর পুলিশ। অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২০০ লিটার মদও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ এবং আবগারি দপ্তর এর কর্মকর্তারা। ওই মদ পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে দেখা যায় তার মধ্যে অত্যাধিক পরিমাণে মিথানল মেশানো ছিল।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার। ইতোমধ্যেই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী এম. কে স্ট্যালিন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে জেলা পুলিশ সুপার সময় সিং মীনাকে।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন লিখেছেন, 'কাল্লাকুরুচি জেলায় বিষাক্ত মদ পান করে একাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত ও দুঃখিত। এই ঘটনায় যারা অভিযুক্ত, তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে সমস্ত সরকারি কর্মকর্তা এই ঘটনা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। যে সমস্ত অপরাধ সমাজকে ধ্বংস করে কঠোর হাতে সেগুলিকে দমন করা হবে।'
গত ১৮ জুন যারা এই মদ কিনে পান করেছিলেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমিক শ্রেণির। ওইদিন রাতে একাধিক মানুষের বমি, ডায়রিয়া, পায়খানা, পেটে ব্যথা, চোখ জ্বালা করাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়।
এরপরই তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বুধবার রাতে থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কাল্লাকুরুচি, সালেম, ভিল্লুপুরম, পদুচেরির সরকারি হাসপাতালগুলোতে তাদের চিকিৎসা চলে। যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তামিলনাড়ুর গভর্নর আরএন রবি বলেন, ‘ভেজাল মদ খাওয়ার কারণে কল্লাকুড়িতে অনেক প্রাণ হারিয়েছে জেনে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। আরো অনেকে গুরুতর অবস্থায় আছেন। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
রাজ্যপাল রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে নকল মদ খাওয়ার কারণে মৃত্যুর ক্রমাগত প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘সময় সময় আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে ভেজাল মদ খাওয়ার কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এতে অবৈধ অ্যালকোহল উত্পাদন এবং সেবন রোধে ত্রুটিগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।’
সূত্র : এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া