ভোট চলছে যুক্তরাজ্যে, ভরাডুবির পথে ঋষি সুনাক 

ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে চলেছে যুক্তরাজ্যে। যদিও ব্রেক্সিট পরবর্তী সময় থেকেই টালমাটাল দেশটি। কোনো সরকারই নির্দিষ্ট ক্ষমতার মেয়াদ পার করতে পারছে না। এই দেশে সরকার বদল মানে ডাল-ভাত। সে কারণে এবারও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ বা টোরি পার্টি নিশ্চিত পরাজয়ের ঝুঁকিতে।

অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, কনজারভেটিভ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এখন যেন অন্তত বিরোধী দলে থাকতে পারেন, সেই আবেদন জানাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। আর ঋষি সুনাকের এই গো হারার পেছনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকরা একটি বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমত যুক্তরাজ্যের ভোটের রাজনীতিতে একটি ফ্যাক্টর হচ্ছে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভোট। সেখানে অন্তত ১৬ লাখ বাংলাদেশির বসবাস। এর মধ্যে সম্প্রতি কেয়ার ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটে আরো অন্তত কয়েক হাজার বাংলাদেশি ব্রিটেনে পাড়ি জমিয়েছেন। তারা এবারের নির্বাচনে ঋষি সুনাকের প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টিকেই এগিয়ে রাখবেন বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। পাশাপাশি একটি দলের টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় আছে। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন চাইছে দেশটির জনগণ।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশিদেরও জয়জয়কার। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ২৩ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ১১ জন। অর্থাৎ ৩৪ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশি এবার যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে লেবার পার্টি থেকে ৮ জন, রক্ষণশীল দল থেকে ২ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি অব ব্রিটেন থেকে ৩ জন, গ্রিন পার্টি থেকে ৬ জন, রিফর্ম পার্টি থেকে ১ জন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস থেকে ১ জন, সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে ১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

টানা ছয় সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারণার পর, বৃহস্পতিবার চলছে ব্রিটিশদের পরবর্তী সরকার বেছে নেয়ার ভোটাভুটি। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৪০ হাজার কেন্দ্রে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট দিচ্ছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। ১৯৪৫ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। হাউজ অব কমন্সের সাড়ে ছয়শ’ সদস্যকে নির্বাচিত করতে দেশটিতে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার আছেন।

নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এবং বিরোধী লেবার পার্টি। যদিও নির্বাচনে কেয়ার স্টারমারের লেবার পার্টি রেকর্ড ভাঙা জয় পেতে যাচ্ছে বলে আগেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টি। কারণ ঋষি সুনাক নিজের আসনটিই হারাতে পারেন এবারের নির্বাচনে। সেই সাথে নির্বাচনে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৯৮টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। যার মধ্যে ৩৫টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র একজন করে।

নির্বাচনি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্লামেন্টের ৬৫০ আসনের মধ্যে অন্তত ৪৮৪টিতে জয় পেতে পারে লেবার পার্টি, যা ১৯৯৭ সালে টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন লেবারের ৪১৮ আসনে জয়ের চেয়েও বেশি। সেবার ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনে জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছিল লেবার পার্টি। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি মাত্র ৬৪ আসনে জয় পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। যদি এ ধারণা সঠিক হয়, তাহলে ১৮৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কনজারভেটিভ পার্টি নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে কম আসন জয়ের লজ্জায় পড়বে।