ইরান সমর্থিত ইয়েমেন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিকে শায়েস্তা করতে ইয়েমেনের ভেতরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিপজ্জনক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উল্টো লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে পণ্যবাহী পশ্চিমা জাহাজে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হামলা শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, লোহিত সাগরে পশ্চিমাদের যুদ্ধজাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে হুতিরা। এবার নজর দিচ্ছে ইসরাইলের ভূখণ্ডের দিকে। যার ছোট একটি মহড়াও দিয়েছে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হাইফতে ক্রুজ মিসাইল শুরু।
হুতিরা বারবার বলছে, তাদের হামলা বন্ধ করা ‘একমাত্র’ উপায় হলো, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা। শিগগিরই স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা। কিন্তু হুতিদের কথায় কান দেয়নি পশ্চিমারা। পাত্তা দেয়নি ইসরাইলও। কিন্তু হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পাল্টে গেলো। আবারও আলোচনায় ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও গবেষণা কেন্দ্র। পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের কাছে খবর আছে, হুতিরা এবার এই ডিমানো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকেই লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
এখানে মনে করে যেতে পারে, ইসরাইলের এই নাজুক পারমাণবিক কেন্দ্রটি চলতি বছরেই বেশ কয়েকবার শিরোনামে এসেছিলো। এই কেন্দ্রের কম্পিউটার সিস্টেম ইরানের হ্যাকার দখলে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব ডেটা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছিলো তেল আবিব। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান । এর পর ইরানের প্রতিশোধমূলক ট্রু-প্রমিস অপারেশনের সময়ও এই কেন্দ্রটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলো ইসরাইল। এবার যথারীতি সেটাও অস্বীকার করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।
ইসরাইলে গণমাধ্যম মারিভ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলো, কিছু স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল ইরান থেকে ছোড়া মিসাইলগুলোর অন্তত একটি ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির একটি ভবনে আঘাত এবং এর আশেপাশে আরও দুটো ভবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইরান এই প্রতিবেদনকে মনগড়া বলে উল্লেখ করেছে। ইরানের মিসাইলকাণ্ডের কিছুদিন পর আরেকটি খবরে বিশ্ব নড়েচড়ে বসে। আর, সেটি হল ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার জন্য প্রশিক্ষণ ও মহড়া নিয়েছে ইয়েমেন সশস্ত্র গোষ্ঠী- হুতি।
লেবাননের আল মায়াদিন টিভি চ্যানেলের এক প্রতিবেদন সূত্রে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইয়েমেনি বাহিনী ‘আওয়ার পাথস লিডস টু আল-কুদস’ শিরোনামে এক সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রে আঘাত হানা, নেগেভ মরুভূমিতে ইসরাইলি ঘাঁটিতে অভিযান, ইহুদি বসতি এবং ইসরাইলকে দেয়া আমেরিকা ও ব্রিটেনের যে কোন কিছুকে লক্ষ্যবস্তু বানানো। মিসাইল, ড্রোন আর ভারী অস্ত্র চালানোয় দক্ষ ইয়েমেনি বাহিনীর ষষ্ঠতম সামরিক অঞ্চল এই মহড়ায় অংশ নেয়।
হুতিদের এই মহড়া, ইসরাইলের নৌবন্দর হাইফাতে হামলা এবং একদিনে তিন দেশের চার জাহাজে মিসাইল আক্রমণ চালানো ঘটনায় এখন রীতিমতো অশনি সংকেত দেখছে পশ্চিমারা। আর, রাতের ঘুম হারাম করে আবোল-তাবোল কথা বলতে শুরু করেছেন তেল আবিবের নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কারণ, তিনি বেশ ভালো করেই জানেন ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রে কিছু হলে মুহূর্তেই ছাড়খার হবে ইসরাইল। অন্যদিকে, বড় কিছু করে দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে হুতি। ভয় একটাই, হুতিরা যা বলে, তা করে দেখাও।