ইয়েমেন থেকে তেল আবিবে প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দখলদার ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণ চালিয়েছে ইয়েমেন। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।  

দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি রোববার এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী তেল আবিবের দক্ষিণে জাফা এলাকায় একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়েছে।  

সারি বলেন, এই অভিযান একটি নতুন হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে পরিচালিত হয়েছে, যা তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে আটকাতে বা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি মাত্র সাড়ে ১১ মিনিটে ২০৪০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জানিয়ে তিনি বলেন, এ আক্রমণ দখলদারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, আর এ কারণ ইসরাইলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০ লাখেরও বেশি জায়নবাদী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। 

সারি যোগ করেন, ইসরাইলি শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পঞ্চম পর্বের অংশ ছিলো এই অভিযান। ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থল ও সমুদ্রে মার্কিন এবং ইসরাইলি বাধা অতিক্রম করে সফলভাবে তার লক্ষ্যে পৌঁছেছে।

আগামী দিনে ইসরাইলে এ ধরনের আক্রমণ আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি। 

ইরানভিত্তিক প্রেস টিভি জানিয়েছে, এ আক্রমণের কথা স্বীকার করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। 

এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত লাখ ছাড়িয়েছে। 

এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সামরিক বাহিনী এডেন উপসাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ইসরাইলের জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করলে, হুতি সমর্থিত সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইসরাইলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের জাহাজকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গেলো দশ মাসে ইসরাইল ও তার মিত্রদেশগুলোর শতাধিক জাহাজ ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। পাশাপাশি ইসরাইল ভূখণ্ডেও হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।