লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। এর মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।
ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়েছে, হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরাইল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র কমান্ডার রয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরাস আবিয়াদ জানিয়েছেন, শুক্রবার বৈরুত শহরতলিতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে শনিবার ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এই হামলায় আরও ৬৮ জন আহত হয়েছেন।
২০০৬ সালে ইসরাইল-হিজবুল্লাহর যুদ্ধের পর বৈরুতে শুক্রবারের হামলাটিই সবচেয়ে বড় বিমান হামলা।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, এই হামলা যুদ্ধের একটি নতুন পর্বের অংশ। আমরা আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য শত্রুদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাবো, এমনকি বৈরুতের দাহিয়াতেও।
এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কসাই’ খ্যাত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইলের লক্ষ্য পরিষ্কার এবং আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাবো।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেছেন, এই হামলা আবারও প্রমাণ করলো যে দখলদার ইসরাইলি কোনো মানবিক, আইনি বা নৈতিক বিবেচনাকে গুরুত্ব দেয় না।
এর আগে লেবাননজুড়ে একযোগে পেজার বিস্ফোরণে বহু হতাহতের রেশ কাটতে না কাটতেই একদিনের মাথায় বুধবার দেশটিতে একযোগে ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
এসব বিস্ফোরণের পরিকল্পনা কয়েকমাস আগে থেকেই করা হয়েছিলো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে হিজবুল্লাহ ও লেবাননের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে মুখ খোলেনি নেতানিয়াহু সরকার।
বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শনিবার বলেছেন, ইসরাইল শিশুদের বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ চালিয়ে যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহ কমান্ডার ইব্রাহিম আকিলকে হত্যার নিন্দা জানালেও এই ঘটনায় সরাসরি প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও।