লঙ্কা বিজয়ের পথে বামপন্থীরা

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর শনিবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের (এনপিপি) নেতা অনুড়া কুমারা দিশানায়েকে দেশটির নবম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছেন।  

এনপিপি'র দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফলে জয়ী ঘোষণা করা হলে রোববারই শপথ গ্রহণ করতে পারেন দিশানায়েকে। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্ক্সবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত দিশানায়েকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, তিনি গণনা করা ভোটের প্রায় ৫০ শতাংশ পেয়েছেন।

প্রাথমিক ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সাজিথ এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২৬ শতাংশ ভোট। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহের অবস্থান তৃতীয়। তিনি পেয়েছেন ১৬ শতাংশ ভোট।

srilanka3

অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার ভাইয়ের ছেলে নামাল রাজাপাকসে এ পর্যন্ত মাত্র ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। শুরুতে তাকে এ নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিলো। 

এ নির্বাচনে মোট ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর একজন প্রার্থী মারা যান। এক কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটার পাঁচ বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন।

এদিকে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি সাবরি এক্সে বলেছেন, এই নির্বাচনে তিনি রনিল বিক্রমাসিংহের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। তবে ভোটের প্রাথমিক ফলাফল স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার জনগণ দিশানায়েকের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি দিশানায়েকেকে এবং তার দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একটি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া কোনো সহজ কাজ নয়। আমি সত্যিই আশাকরি যে তাদের নেতৃত্ব শ্রীলঙ্কায় শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা ফিরবে।  

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নতুন আইন অনুযায়ী, দেশটিতে একজন ভোটার মোট তিন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। কোনো একজন প্রার্থী কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বা এর চেয়ে বেশি ভোট পেলে তাকেই বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। 

তবে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফা (রান-অফ) ভোট হবে।

এ নির্বাচনকে পরবর্তী নেতা বাছাইয়ের পরিবর্তে আইএমএফের কর্মসূচির ওপর গণভোট হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেক বিশ্লেষক।

এর আগে অর্থনৈতিক মন্দার জেরে ২০২২ সালে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে একই বছরের মে মাসে হাজার হাজার মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসের বাসভবনে ঢুকে পড়ে। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন গোতাবায়া। 

পরে ক্ষমতায় বসেন রনিল বিক্রমাসিংহে। পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। গেলো দুই বছরে বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক মন্দা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।

২০২২ সালে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর অর্থাৎ দেউলিয়া হওয়ার পর এখনও শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ শুরু করেনি। দেশটির ওপর এখনও চার হাজার ৬০০ কোটি ডলার বা ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ রয়েছে। 

অর্থনৈতিক মন্দা অনেকটা কেটে গেলেও শ্রীলঙ্কায় বেঁচে থাকতে এখনও লাখ লাখ মানুষ রীতিমতো সংগ্রাম করছে।