যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যে জিম্মির নতুন ভিডিও 

যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরেছে হামাস-ইসরাইল। কাতারের রাজধানী দোহায় শুক্রবার থেকে পুনরায় আলোচনা শুরু হবার পর, ফিলিস্তিনের গাজায় জিম্মি থাকা লিরি আলবাগ নামে এক ইসরাইলি তরুণীর ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাসের সশস্ত্র শাখা। খবর বিবিসি। 

শনিবার প্রকাশিত ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা যাচাই করা যায়নি। প্রায় সাড়ে তিন মিনিটের ভিডিওটির তারিখ ছিলো না। তবে ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের সাত অক্টোবর হামাস কর্তৃক গাজায় নিয়ে যাওয়া ইসরাইলি জিম্মিদের ভিডিও প্রকাশের সর্বশেষ ঘটনা এটি।  

যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি নিয়ে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর সময়ে জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করে তেলআবিবের প্রশাসনের চাপ তৈরি করেছে হামাস। ভিডিওতে ১৯ বছর বয়সী লিরি বলেছেন, তাকে ৪৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

ভিডিও দেখার পর লিরির বাবা-মা বলেছেন, হামাসের পাঠানো ভিডিওটি তারা দেখে শ্বাস নিতে পারছে না। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সরকারের কাছে জিম্মিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আবেদন করে বলেছেন, মনে করুন আপনার সন্তানরাও সেখানে আছেন।

হামাসের হাতে আটক হওয়ার আগে লিরি ইসরাইলি সেনাবাহিনী কর্মরত ছিলেন। হামাসের যোদ্ধারা যোদ্ধারা যখন সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলে প্রবেশ করে, লিরি তখন একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় হামাসের তড়িৎ হামলায় ১৫ সেনা নিহত হয় এবং লিরিসহ ছ’জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

এদিকে, হামাস জানিয়েছে, তারা গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায়। যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি রয়ে নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহাতে শুরু হওয়া হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠকের নতুন দফায় এই মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ হামাস কর্মকর্তা বাসেম নাইম।

বৃহস্পতিবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য আবারো একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জিম্মিদের মুক্ত করার আলোচনায় ‘কিছুটা অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির সম্ভাবনাকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করে যাচ্ছেন তিনি। 

কাতারের রাজধানী দোহাতে প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা যুদ্ধে একটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। শুক্রবার হামাস জানায়, আলোচনা আবার শুরু হয়েছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অঙ্গীকারবদ্ধ। 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালায় হামাস। ওই দিন ইসরাইল থেকে ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে ৯৬ জন এখনো জিম্মি আছেন। ৩৪ জন মারা গেছেন বলে দাবি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর। অন্যরা ইতিপূর্বে হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ছাড়া পেয়েছেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির জন্য কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দোহায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে।