সেনা প্রত্যাহার চলাকালীনই আফগানিস্তানে নতুন করে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো আমেরিকা। তবে তালেবানদের আগ্রগতি ঠেকাতে নয়, আফগানিস্তানে কর্মরত আমেরিকার নাগরিকদের ‘মসৃণভাবে’ দেশে ফেরাতে আমেরিকার এই উদ্যোগ। খবর দ্য ওয়াসিংটন পোস্টের।
জো বাইডেন সরকারের বিদেশ দপ্তর সূত্র জানায়, আমেরিকার নাগরিকদের পাশাপাশি আমেরিকায় ভিসার আবেদন মঞ্জুর হওয়া বিদেশিরাও এই সেনা-নিরাপত্তার সুযোগ পাবেন। মূলত কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেখভালের কাজেই লাগানো হবে তিন হাজার সেনাবাহিনীকে।
এদিকে শুক্রবার (১৩ আগস্ট) রাজধানী কাবুলের মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে গেছে তালেবান বাহিনী। লোগার প্রদেশের রাজধানী পুলি আলম তারা কবজা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ওই প্রদেশ থেকে আফগান পার্লামেন্টে নির্বাচিত নেতা সঈদ কারিবুল্লা সদর বলেছেন, প্রাণভয়ে মানুষ পালি আলম ছেড়ে পালাচ্ছে।
অপরদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি শুক্রবার বলেন, আফগানিস্তানে বিভিন্ন দায়িত্ব থাকা আমেরিকার সংস্থা এবং তাদের সহযোগীদের নিরাপত্তার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিনের নির্দেশে আমেরিকার সেনাকে আফগানিস্তানে কর্মরত অসামরিক কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
৯/১১-র হামলার পর থেকে প্রায় দুই দশক বিদেশি সেনা মোতায়েন ছিল আফগানিস্তানের মাটিতে। ২০০১-এর অক্টোবরে প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজার আমেরিকান সেনা তালেবান দমন অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন এনডিওরিং ফ্রিডম’। পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনসহ ন্যাটো জোটের বাহিনীও ওই অভিযানে যোগ দেয়। ২০১১ তে আফগানিস্তানে মোতায়েন বিদেশি সেনার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু ‘নেভি সিল’-এর অভিযানে আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পরে ধাপে ধাপে সেনা কমানো শুরু করে আমেরিকা। চলতি বছরের গোড়ায় আমেরিকার প্রায় পাঁচ হাজার সেনা আফগান জনতার নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে ছিল। কিন্তু বাইডেনের নির্দেশে জুলাইয়ের শেষে সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ায় এখন তা দুই হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
প্রাথমিক ভাবে স্থির করা হয়েছিল আফগান রাষ্ট্রপতি-সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা দেখভাল করতে ৬৫০ জন সেনা কাবুলে রাখবে আমেরিকা। কিন্তু পরবর্তী কালে তা নিয়েও ‘ভাবনাচিন্তা’ শুরু হয়েছে।
আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে আমেরিকা যা খরচ করেছে তার ৬০ শতাংশই হয়েছে আফগান সেনার জন্য। মোট হিসেবে প্রায় আট হাজার নয়শ’ কোটি ডলার। কিন্তু আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারের পর যে ভাবে একের পর এক প্রদেশে তালেবান দখলদারি শুরু হয়েছে, তাতে কাবুলের পতন এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে পেন্টাগন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাই এক মাত্র লক্ষ্য, দ্রুত অসামরিক নাগরিকদের দেশে ফেরানো।
একাত্তর/এসি