অধিকাংশ ইসরাইলির বিশ্বাস নেতানিয়াহু সরকার গাজায় ব্যর্থ হয়েছে

গাজা যুদ্ধে নেতানিয়াহু সরকার নিজেদের সফল দাবি করলেও বাস্তবে দেশটির অধিকাংশ নাগরিক না বিশ্বাস করেন না। ইসরাইল যে লক্ষ্য নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যা ও আগ্রাসন চালিয়েছে তা 'সম্পূর্ণভাবে অর্জিত' হয়নি বলে মনে করেন দখলদার রাষ্ট্রটির ৫৭ শতাংশ নাগরিক। 

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম মারিভের এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আল জাজিরা। 

গবেষণা সংস্থা লাজার রিসার্চ পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ইসরাইলি বিশ্বাস করেন যে, গাজায় যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো 'সম্পূর্ণভাবে অর্জিত' হয়নি। কিছু লক্ষ্য অর্জিত হলেও নেতানিয়াহু সরকারের ভুল পদক্ষেপের কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে। 

অন্যদিকে, ৩২ শতাংশ ইসরাইলি বিশ্বাস করেন যে, গাজায় ইসরাইলের কোনো লক্ষ্যই  'অর্জিত হয়নি'। তাদের সরকার সেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আর মাত্র ৪ শতাংশ ইসরাইলি বিশ্বাস করেন, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের লক্ষ্য 'পুরোপুরি অর্জিত' হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল ইসরাইলিরাই নয়, বরং বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় আগ্রাসন ও গণহত্যা চালানোর পরও ইসরাইলি বাহিনী হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

সবশেষ গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সেখানে হাজার হাজার হামাস সদস্যকে দেখা গেছে। সংগঠনটি বলছে, ইসরাইল হাজার চেষ্টা করেও তাদের নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। 

এদিকে গাজা যুদ্ধে ব্যর্থতার দায়ে দখলদার ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তাদের মাঝে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল হারজি হালেভি এবং সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল ইয়ারোন ফিংকেলম্যান। এছাড়াও আরও পদত্যাগ করেছেন গাজা বিভাগের কমান্ডার আভি রোজেনফেল্ড, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আহারন হালিভা, গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর কমান্ডার ইয়োসি সারিয়েল এবং গাজা উপত্যকার উত্তর ব্রিগেডের কমান্ডার হাইম কোহেন।

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। হামাসের আকস্মিক অভিযান মোকাবেলায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। এর মধ্যদিয়ে দখলদার বাহিনীর অজেয় থাকার মিথকে মারাত্মক ভেঙে দেয় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। 

এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রিজার্ভ জেনারেল আইজ্যাক বারাক ইসরাইলে আসন্ন গৃহযুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, গাজাভিত্তিক হামাস এবং ইসলামী জিহাদ আন্দোলন যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে, কিন্তু ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভেঙে পড়েছে এবং যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ হবে বিপর্যয়কর।

বারাক আরও বলেন, হামাস এবং ইসলামী জিহাদ নিজেদের পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে, ইসরাইলি সমাজ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। বাস্তবতা হলো যুদ্ধ যদি অব্যাহত থাকতো তাহলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামাসকে পরাজিত করতে সক্ষম হতো না।