ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় গেলো বছর বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ সামরিক ব্যয় হয়েছে। কোল্ড ওয়ার বা শীতল যুদ্ধের পর ২০২৪ সালে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে ক্ষমতাধর দেশগুলো।
সোমবার সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৭২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৯.৪ শতাংশ বেশি।
এশিয়া ও আফ্রিকার তথ্য এখনও চূড়ান্ত না হলেও গেলো বছর ইউরোপে সামরিক ব্যয় ১৭ শতাংশ বেড়ে ৬৯৩ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্যপ্রাচ্যে ১৫ শতাংশ বেড়ে ২৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মাল্টা বাদে প্রায় সকল ইউরোপীয় দেশই সামরিক খাতে বাজেট বাড়িয়েছে।
এর মধ্যে দখলদার ইসরাইলের সামরিক খরচ ৬৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যা ১৯৬৭ সালের পর সর্বোচ্চ।
ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মোট ব্যয় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের প্রায় ৫৫ শতাংশ। ন্যাটোর ৩২টি সদস্যের মধ্যে ১৮টি দেশ জিডিপির ২ শতাংশ বা তার বেশি সামরিক খাতে খরচ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র একাই খরচ করেছে ৯৯৭ বিলিয়ন ডলার, যা সামরিক খাতে বিশ্বের মোট ব্যয়ের ৩৭ শতাংশ।
এসআইপিআরআই'র গবেষক ডিয়েগো লোপেজ ডি গোমেজ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও আমেরিকার প্রতি নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের এই ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ। তবে এতে সামরিক স্বাধীনতা বা সক্ষমতা বাড়ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) ১৯৬৬ সাল থেকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে গবেষণা করছে।
সংস্থাটি বলছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এই ব্যয় বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।