জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ৯টি স্থানে হামলা করেছে ভারত। দেশেটির দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো শুধুই সন্ত্রাসীদের আস্তান। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহতের দাবি করেছে পাকিস্তান। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহার দাবি করেছেন,অপারেশন সিন্দুরের পরিবারের ১০ সদস্য এবং তার চার সহযোগী নিহত হয়েছেন। আর ভারতের দাবি ৭০ জন সন্ত্রাসী এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।
এদিকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এ নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই নারী অফিসার। তাদের একজন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং এবং কর্নেল সুফিয়া কুরেশি।
হামলার পর সোফিয়া জানান, বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে তাদের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা হয়েছিল। অপারেশনে পাকিস্তানের কোনো সামরিক স্থাপনায় হামলা করা হয়নি।
যে ৯টি স্থানে হামলা করা হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং বলেন, ভারত তার প্রতিক্রিয়ায় যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে। তবে, পরিস্থিতি আরও খারাপ করার জন্য পাকিস্তানের যে কোনো অভিযানের জবাব দিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
ব্যোমিকা সিং এবং কর্নেল সোফিয়া কুরেশি কারা?
উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একজন বিশিষ্ট হেলিকপ্টার পাইলট। তিনি ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পসে যোগদান করেন এবং পরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করেন। উইং কমান্ডার সিং ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফ্লাইং ব্রাঞ্চে স্থায়ী কমিশন লাভ করেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্বের মতো উচ্চ-উচ্চতা অঞ্চলসহ ভারতের কিছু চ্যালেঞ্জিং ভূখণ্ডে ‘চেতক’ এবং ‘চিতা’-এর মতো হেলিকপ্টার পরিচালনা করেছেন। অনেক উদ্ধার অভিযানে ছিলেন তিনি।
কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কর্পসের একজন সম্মানিত কর্মকর্তা। তিনি পুনেতে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম মহিলা কর্মকর্তা- যা ভারতীয় মাটিতে পরিচালিত সর্ববৃহৎ বিদেশী সামরিক মহড়াগুলির মধ্যে একটি।