ভারতের ছত্তিশগড়ে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২৬ মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। টানা ৫০ ঘণ্টা ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে নারায়নপুর-বিজাপুর সীমান্ত এলাকায় মাওবাদীদের বন্দুক যুদ্ধ চলে।
নারায়নপুরে কয়েকদিন আগে নিরাপত্তা বাহিনীর এ অভিযান শুরু হয়। এর আগে মধ্য ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানা রাজ্যের সীমান্তে মাওবাদী বিদ্রোহীদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনী ২১ দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলায় পুলিশ ও মাওবাদীদের গুলির লড়াইয়ে নিহত মাও কমান্ডার বাসবরাজ। তার আসল নাম নাম বালা কেশব রাও।
বহুদিন ধরে ৬৫ বছর বয়সী এই অন্ধ্র জোনের প্রধানের সন্ধান করছিল পুলিশ। তার মাথার দাম এক কোটি টাকা বলেও ঘোষণা করা হয়েছিল। কমান্ডারের সঙ্গেই পুলিশের গুলিতে নিহত কমপক্ষে ২৬ মাওবাদী।
বুধবার ভোররাত থেকেই মাওবাদীদের খোঁজে শুরু হয় অপারেশন। দান্তেওয়াড়া-নারায়ণপুর-বীজাপুরের সীমানায় ব্যাপক গুলির লড়াই হয় পুলিশ ও মাওবাদীদের মধ্যে।
এই অভিযানে নারায়ণপুর, বিজাপুর এবং দান্তেওয়াড়া জেলার ডিআরজি সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন। ওই এলাকায় শীর্ষ কম্যান্ডারের উপস্থিতি নিয়ে গোপন খবর পেয়েই অভিযান চালানো হয়।
এই অভিযানে মোট ২১৪টি নকশাল আস্তানা এবং বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তল্লাশির সময় শত শত বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার সদস্য। ভারতের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে কয়েক দশক করে সশস্ত্র গেরিলা সংগ্রাম করে আসছে মাওবাদীরা। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে প্রায় সময় তাদের সংঘর্ষ হয়।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অন্য এক অভিযানে, তেলঙ্গনা সীমান্তবর্তী কারেগুট্টা পাহাড়ের কাছে ছত্তিসগড়ের বিজাপুর জেলার জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিলেন।