নাইরোবিতে বিক্ষোভাকারীদের ওপর পুলিশের গুলি

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এ সময় একজন  বিক্ষোভকারকে রক্তাক্ত অবস্থায় নাইরোবীর রাস্তায় নিশ্চল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। গণতন্ত্রপন্থী সমাবেশের ৩৫তম বার্ষিকীতে নাইরোবীসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনের সময় এই ঘটনা ঘটে।

গুলির ঘটনা নিয়ে পুলিশের মুখপাত্র মুচিরি নায়াগা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। উল্লেখ্য, গত মাসে পুলিশ হেফাজতে ব্লগার অ্যালবার্ট ওজওয়াংয়ের মৃত্যুর পর থেকে কেনিয়াতে জনসাধারণের বিক্ষোভে নতুন করে গতি এসেছে।

২০২৪ সালের জুনে তরুণদের বিক্ষোভের পর থেকে কর্তৃপক্ষ নাইরোবিতে পুলিশ মোতায়েন বাড়িয়েছে। প্রথম দিকে কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও, পরে দুর্নীতি, পুলিশি বর্বরতা এবং সরকারবিরোধী সমালোচকদের তুলে নেয়ার প্রতিবাদ আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং পুরো কেনিয়াতে ছড়িয়ে পরে।  

রয়টার্সের একজন প্রতিবেদক সোমবার নাইরোবির একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শত শত বিক্ষোভকারী এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করতে দেখেছেন। রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির কাঙ্গেমিতে মিছিল করার সময় কেউ কেউ বাঁশি বাজায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদকের মতে, কয়েক ঘন্টা পরে, বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, পুলিশ জনতার উপর গুলি চালায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পূর্ব আফ্রিকার দেশটির বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নাইরি, এম্বু এবং হ্রদের তীরবর্তী শহর নাকুরু, যেখানে ঘোড়ায় চড়ে অর্ধ ডজন পুলিশ কর্মকর্তা পাথর ছোঁড়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।

পুলিশ এর আগে নাইরোবিতে যাওয়ার প্রধান রাস্তাগুলো অবরোধ করে রাখে এবং শহরের মধ্যে যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেও বিক্ষোভকারীরা পায়ে হেঁটে শহরের কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। সম্ভাব্য ঝামেলার আশঙ্কায় বেশিরভাগ স্কুল ও কমপক্ষে একটি শপিং মল বন্ধ করে দেয়া হয়। 

গেলো মাসে বিক্ষোভগুলোকে মতবিরোধের ছদ্মবেশে সন্ত্রাসবাদ হিসাবে উল্লেখ করা কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন রোববার তার এক্স অ্যাকাউন্টে বলেন, সরকার জনমাল রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ মিছিলে অনুপ্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ, বিশৃঙ্খলা বা সম্পত্তি ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে কিছু সন্ত্রাসী। 

১৯৯০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড্যানিয়েল আরাপ মোইয়ের বিরোধীরা কেনিয়াকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরিত করার প্রচেষ্টা শুরু করার তারিখটি স্মরণে প্রতি বছর ৭ জুলাই সমাবেশ করে। এই বিক্ষোভকে ‘সাবা সাবা’ বলা হয়। কেনিয়ার ভাষায় এর অর্থ হচ্ছে সাত-সাত।