ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে বিশ্ব জনমত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এবার, পর্তুগাল আসছে সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রোর দপ্তর নিশ্চিত করেছে। এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনের সময় এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পর্তুগাল সরকার। আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে এই অধিবেশন। পর্তুগাল সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে একাধিক যোগাযোগের পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
এর আগে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স ঘোষণা করেছে, তারা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চলেছে। এটি তিন দেশের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্য ও কানাডা জানিয়ে দিয়েছে, ইসরাইল যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করে, তাহলে এই স্বীকৃতি স্থগিত রাখা হতে পারে। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হামাসকেও কিছু শর্ত পূরণ করতে বলেছে পশ্চিমারা।
বৃহস্পতিবার পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনেগ্রোর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহেই এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হতে পারে।
গাজা সংকটের পটভূমিতে এই পদক্ষেপকে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশল হিসেবেই দেখছে পর্তুগাল।
এদিকে, জার্মানি এখনই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে নয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল জানান, এই মুহূর্তে স্বীকৃতি উপযুক্ত নয়, তবে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক আলোচনা অবিলম্বে শুরু হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে গঠিত দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি-উভয় জনগণের জন্য শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। জার্মানির দৃষ্টিতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয় হবে আলোচনার সফল সমাপ্তির পরে।
এছাড়া ইউরোপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ সুইডেন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার জন্য। সুইডিশ কর্মকর্তারা গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে তুলে ধরে এই পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।