অমরত্ব নিয়ে পুতিন-শি’র আলাপ

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অমরত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। বেইজিংয়ের সামরিক কুচকাওয়াজ শুরুর আগে তাদের এই আলাপ চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাইক্রোফোনে ধরা পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। রয়টার্সও একই ধরনের খবর প্রকাশ করেছে।

কথোপকথনের অনুবাদ অনুযায়ী পুতিন বলেন, বায়োটেকনোলজির নানা উদ্ভাবনের ফলে অমরত্ব লাভ করাও সম্ভব। ওই কথোপকথনের অনুবাদ ধরা পড়ে গোপন মাইকে (হট মাইক)।

সি, পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন যখন বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ার দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন অসতর্কতাবশত চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে মুহূর্তটি ধরা পড়ে।

Xi-and-Putin-Caught-on-Hot1

কথোপকথনটি অনুবাদ করছিলেন সির রুশ দোভাষী এবং পুতিনের মান্দারিন দোভাষী। পরে বিবিসি সেটিকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে।

চীনের রেডিও ও টিভি প্রশাসন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার অনলাইনে প্রায় ১৯০ কোটি বার দেখা হয়েছে এবং টিভিতে ৪০ কোটির বেশি মানুষ তা দেখেছেন।

সিসিটিভির সম্প্রচারে শোনা যায়, পুতিনের অনুবাদক শিকে উদ্দেশ করে বলেন, জীবপ্রযুক্তি ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। মানব অঙ্গ বারবার প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। যতদিন বাঁচবেন, ততই তরুণ হবেন, এমনকি অমরত্বও অর্জন করা যেতে পারে। এর জবাবে শিকে বলতে শোনা যায়, অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, এ শতাব্দীতে মানুষ হয়তো ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারবে।

কথোপকথনের সময় কিম জং উনকে হাসতে দেখা গেলেও এটি তার জন্য অনুবাদ করা হচ্ছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়। তাছাড়া পুতিনকে স্পষ্টভাবে রুশ ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়নি।

পরে বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন নিশ্চিত করেন যে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উন্নয়নের আধুনিক উপায়, চিকিৎসা পদ্ধতি, এমনকি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো অস্ত্রোপচার- সবই মানুষকে আশাবাদী করছে জীবন ভিন্নভাবেও সক্রিয় থাকতে পারে।

Xi-and-Putin-Caught-on-Hot2

পুতিন ও কিম ছাড়াও কুচকাওয়াজে অংশ নেন আরও ২৪ জন রাষ্ট্রীয় অতিথি। তাদের মধ্যে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ভিয়েতনামের লুয়ং কুয়ং ও জিম্বাবুয়ের এমারসন মানাঙ্গাগওয়া।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে চীন।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, শি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে।

ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে লেখেন, ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দিন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।