ট্রাম্প প্রশাসন তার সর্বশেষ এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির পরিবর্তনের পক্ষে আদালতে ‘লড়াই করবে’ বলে ঘোষণা করেছে। হোয়াইট হাউসের যুক্তি, এই সংস্কারগুলো আমেরিকান শ্রমিকদের সুরক্ষা করতে এবং ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অপব্যবহার মোকাবিলা করতে লক্ষ্য করে।
প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেছেন, ট্রাম্প আমেরিকান মজুরি কমিয়ে দেওয়া এই ব্যবস্থাটি পরিশোধন করতে চান, যা ‘মূলত প্রতারণায় ভরা।
তিনি বলেছেন, প্রশাসন এই নতুন নীতিগুলোকে বৈধ এবং প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করে, যদিও টেক শিল্প গ্রুপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দ্বারা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ট্রাম্পের মূল অগ্রাধিকার, ‘সর্বদা আমেরিকান শ্রমিকদের প্রথমে রাখতে’ আমাদের ভিসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এই কর্মগুলো বৈধ। আমরা আদালতে এই লড়াই চালিয়ে যাবো; যোগ করে লেভিট।
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মার্কিন টেকনোলজি কোম্পানি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি উচ্চদক্ষ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করতে ব্যবহার করে, তাদের মধ্যে অনেকেই ভারত থেকে। মামলাগুলোতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, প্রশাসনের নিয়ম পরিবর্তন—যোগ্যতার মানদণ্ড শক্তিশালী করা এবং লটারি ব্যবস্থা পরিবর্তন করা—প্রশাসনিক পদ্ধতি লঙ্ঘন করে এবং আমেরিকান প্রতিযোগিতামূলকতাকে ক্ষতি করবে।
লেভিট একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বিবৃতি এবং বর্তমান নীতিগত অবস্থানের মধ্যে বৈপরীত্যের কথা উত্থাপন করে বলেন, এতো কোনো অসঙ্গতি নেই। সংস্কারগুলো কর্মসূচিকে নির্মূল নয়, শক্তিশালী করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এইচ-১বি ভিসা ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে একটি মূল স্তম্ভ রয়ে গেছে। সব এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশ ভারতীয় নাগরিকদের দেওয়া হয়, যারা প্রধানত টেকনোলজি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে নিয়োগ পান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের সর্বশেষ ব্যবস্থা—চাকরির ভূমিকায় উচ্চতর পরীক্ষা আরোপ এবং আউটসোর্সিং অনুশীলন সীমিত করা—ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ‘হায়ার আমেরিকান’ দৃষ্টিভঙ্গির একটি ধারাবাহিকতা চিহ্নিত করে। তবে ব্যবসায়িক গ্রুপগুলো সতর্ক করে বলছে যে, নীতি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিভাদের মার্কিন যাওয়ার থেকে নিরুৎসাহিত করার ঝুঁকি তৈরি করে।
ট্রাম্প প্রশাসন সেপ্টেম্বরে একটি নির্বাহী আদেশে নতুন এইচ-১বি আবেদনের জন্য এক লাখ ডলার ফি আরোপ করে। যারা উদ্দেশ্য- আমেরিকান শ্রমিকদের সুরক্ষা। এটি শুধুমাত্র নতুন ভিসার জন্য প্রযোজ্য, নবায়নের জন্য নয়।
সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে, টেক জায়ান্টগুলো যেমন অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগল এইচ-১বি ধারকদের ওপর নির্ভর করে এবং এই পরিবর্তনগুলি উদ্ভাবনকে প্রভাবিত করতে পারে। ভারতীয় নাগরিকরা এইচ-১বি ভিসার ৭০% পান, যা মার্কিন-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
সূত্র: দ্য হিন্দু।