ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ রক্তক্ষয়ী শীতের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় জানিয়েছেন, মস্কো তার লক্ষ্য অর্জনে অবিচল রয়েছে। তবে পশ্চিমাদের সাথে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনাকে তিনি ‘উন্মাদনা ও মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা দিতে রাশিয়ার ফ্রিজ করা সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে পুতিন বলেন, গত এক বছরে প্রায় ৩০০টি এলাকা ‘মুক্ত’ করেছে রুশ বাহিনী। তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন, মস্কো সংঘাতের মূল কারণগুলো কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমারা অর্থবহ আলোচনায় রাজি না হলে ‘ঐতিহাসিক ভূখণ্ড’ পুনরুদ্ধারে রাশিয়া সামরিক পথেই এগোবে। পশ্চিমাদের রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার ডাককে তিনি শুধুই উত্তেজনা ছড়ানোর কৌশল বলে অভিহিত করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে বর্তমানে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো সম্পদ জমা রয়েছে। ব্রাসেলসে শুরু হওয়া শীর্ষ সম্মেলনে ইইউ নেতারা আলোচনা করছেন কীভাবে এই অর্থের মুনাফা ইউক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়।
কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের জন্য ইউক্রেনের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তবে বেলজিয়াম, ইতালিসহ বেশ কিছু দেশ এই সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার দাবিগুলো ‘অযৌক্তিক’ হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থার সংকট এড়াতে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন, চেলসি ফুটবল ক্লাবের প্রাক্তন মালিক রোমান আব্রামোভিচ ক্লাবটি বিক্রি করে যে ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড পেয়েছিলেন, তা ইউক্রেনের মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে। স্টারমার স্পষ্ট জানান, রুশ ধনকুবেরকে এই যুদ্ধের দায় মেটাতেই হবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে কুপিয়ানস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি দাবি উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক শহরের ৯০ শতাংশ বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে। আর, রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ জানিয়েছেন, ইউক্রেন শহরটি দখলের চেষ্টা করলেও তারা সফল হয়নি।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের (ডনবাস) ৯০ শতাংশ এবং খেরসন ও জাপোরিঝিয়ার ৭৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া দুই দেশই সম্প্রতি একে অপরের জ্বালানি কেন্দ্র ও তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ তীব্রতর করেছে।