ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবল বন্যা ও ভূমিধস, প্রাণঘাতী দুর্যোগের সতর্কতা

প্রবল বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ কাদা-ধসের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান বার্নার্ডিনো কাউন্টিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের পূর্বে অবস্থিত পাহাড়ি রিসোর্ট শহর রাইটউড বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার প্রাটার জানান, উদ্ধারকারী দলগুলো সারাদিন অসংখ্য কল পেয়েছেন এবং তলিয়ে যাওয়া গাড়ি থেকে চালকদের উদ্ধার করেছেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, লোকালয়ের মধ্য দিয়ে প্রবল বেগে কাদার স্রোত বয়ে যাচ্ছে। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া দপ্তর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অধিকাংশ এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। এমনকি আলহামব্রা এলাকায় শক্তিশালী বজ্রঝড়ের কারণে বিরল এক টর্নেডো সতর্কতা জারি করা হয়। ঘণ্টায় এক ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও পাথর পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

calofonia1

গত বছরের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত প্যাসিফিক প্যালিসেডস (Pacific Palisades) এলাকার প্রায় ১৩০টি বাড়িকে ভূমিধসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাইটউড এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ বা ঘরেই অবস্থান করার নির্দেশ জারি করেছে। বন্যায় ডুবে যাওয়ায় সান গ্যাব্রিয়েল মাউন্টেনসের প্রধান রুট ‘অ্যাঞ্জেলেস ক্রেস্ট হাইওয়ে’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

calofonia2

প্যাসিফিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের প্রভাবে সৃষ্ট শক্তিশালী ঝড়টি শুক্রবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। বড়দিনে ছুটিতে যখন রাস্তায় মানুষের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকার কথা, ঠিক তখন এমন প্রাণঘাতী আবহাওয়ায় চালকদের রাস্তায় বের না হওয়ার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এরিয়েল কোহেন জানিয়েছেন, কিছু পাদদেশ এলাকায় ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ শেষে নিচু পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এক ফুটেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বুধবার রাতে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবার থেকে ঝড়ের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের কারণে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।