জেনেভা বৈঠক ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষীণ আশার সম্ভাবনা নিয়েই এই বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি রবিবার এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় এই পরোক্ষ আলোচনাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই বৈঠকে অংশ নেবেন। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনই হবে এই আলোচনার একমাত্র বিষয়।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এবার কিছু বাড়তি ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এরমধ্যে রয়েছে, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া এবং বাকি ইউরেনিয়াম তরলীকরণ করা। পাশাপাশি আঞ্চলিক একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে পরমাণু কার্যক্রম পরিচালনা করা।

এসব ছাড়ের বিনিময়ে তেহরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি চাইছে। বিশেষ করে জ্বালানি উৎপাদনে পুরমাণু ছাড় চায় তেহরান। এছাড়া মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়েছে।


সামরিক হুঁশিয়ারি ও ওয়াশিংটনের চাপ:
আলোচনা চললেও যুদ্ধের সম্ভাবনা মোটেও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার সতর্ক করেছেন যে, আলোচনার ফল ইতিবাচক না হলে ইরানের ওপর সীমিত পরিসরে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বিরাজ করছে। দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও জাহাজ মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবাক হচ্ছেন যে এত চাপের মুখেও ইরান কেন এখনো পুরোপুরি নতিস্বীকার করছে না।

ইরানের পাল্টা হুমকি ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুন মাসের যুদ্ধের তুলনায় ইরান এখন প্রতিরক্ষামূলকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল হামলা চালালে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পুনরায় পাল্টা আঘাত হানবে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে সরকারবিরোধী নতুন করে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা তেহরান প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।


ইসরাইলের অবস্থান ও হিজবুল্লাহ আতঙ্ক:
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার রাতে তার নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের সাথে বৈঠক করেছেন। ইসরাইলের মূল দুশ্চিন্তা হলো, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়, তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ভূমিকা কী হবে। যদিও গত দুই বছরের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর শক্তি অনেকখানি কমেছে, তবুও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে তাদের পুনরায় সক্রিয় হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইসরাইল মনে করছে, ইরান আলোচনার নামে আসলে সময়ক্ষেপণ করছে।

জেনেভা বৈঠক কি যুদ্ধের মেঘ সরিয়ে দেবে, নাকি এটি হবে সংঘাতের আগের শেষ আনুষ্ঠানিকতা? ওমানের মধ্যস্থতায় হতে যাওয়া এই বৈঠকটিই সম্ভবত ঠিক করে দেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ মানচিত্র।