মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাত চরম রূপ নেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে এখন ১১৪ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে তেলের বাজারে এমন রেকর্ড লম্ফঝম্প আর দেখা যায়নি।
সোমবার (৯ মার্চ) এশীয় বাজারে লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ১১৪.৭৪ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, আমেরিকান লাইট সুইট বা নাইমেক্স ক্রুডের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ১১৪.৭৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে তেলের দাম সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয় পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
শত শত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। ইরান ইতোমধ্যেই এই পথে যেকোনো জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, জ্বালানির দাম এভাবে বাড়তে থাকলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল, তারা বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে তেলের দামের এই উল্লম্ফনকে ‘স্বল্পমেয়াদী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি খুবই সামান্য ত্যাগ। ইরানের পরমাণু হুমকি নির্মূল হলেই তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।
তবে বাজার বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার এমনকি ২০০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ সংকটে নিমজ্জিত করবে।