অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি আপাতত অনুমতিহীনদের জন্য ‘বন্ধই থাকছে’।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বিবিসি।
বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান দুই সপ্তাহের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিলো।
জাহাজ ব্রোকার সংস্থা এসএসওয়াই বিবিসি ভেরিফাইকে নিশ্চিত করেছে যে উপসাগরের জাহাজগুলো নিম্নলিখিত বার্তাটি পেয়েছে। সেটি হলো-
‘সব জাহাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব জাহাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এটি আইআরজিসি নৌ স্টেশন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে এবং এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার আগে আপনাদের আইআরজিসি-র অনুমতি নিতে হবে। নচেৎ সমুদ্রে প্রবেশের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
এসএসওয়াই-এর ট্যাঙ্কার গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্লেয়ার গ্রিয়ারসন বিবিসি ভেরিফাইকে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সতর্কতার জন্য ব্যবহৃত একটি রেডিও চ্যানেলে জাহাজের কর্মীরা এই বার্তাটি শুনেছেন বলে সংস্থাটি অবগত আছে।
অপরদিকে, এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি প্রকৃত সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে হেগসেথের বক্তব্যকে কিছুটা স্ববিরোধী এবং স্বচ্ছতাহীন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনও কমেনি। ইসরাইল জানিয়েছে, লেবাননে তাদের স্থল অভিযান শুরুর পর এটিই ছিলো তাদের সবচেয়ে বডড়ো হামলা। যদিও এর আগে ইসরাইল বলেছিলো, যুদ্ধবিরতির এই আলোচনার আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে হামলা এবং দক্ষিণ ইরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন শান্তি প্রক্রিয়ার চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করছে।