লেবানন-ইসরাইলের ঐতিহাসিক বৈঠক বৃহস্পতিবার: ট্রাম্প

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন লেবানন ও দখলদার ইসরাইলের শীর্ষ নেতারা। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাত বন্ধ, সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে এই আলোচনার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই বৈঠক কোথায় বা কখন অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

দুই দেশের মধ্যে কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি।

দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এ দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি, প্রায় ৩৪ বছর। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) সেই আলাপ হতে যাচ্ছে। দারুণ ব্যাপার!

এদিকে লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানি দুই হাজার ছাড়িয়েছে; বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। 

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকশ নারী-শিশুকে হত্যা করে মার্কিন-ইসরাইলি জোট। 

এর জেরেই গত ২ মার্চ থেকে ইরান-সমর্থিত লেবানিজ সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর পুনরায় হামলা শুরু করলে লেবাননও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে দখলদার বাহিনী লেবাননের নারী-শিশুদের লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালিয়ে আসছে। 

হিজবুল্লাহর দাবি, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতি চুক্তি ইসরাইল বারবার লঙ্ঘন করার প্রতিবাদে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। 

অন্যদিকে দখলদার ইসরাইলের দাবি, তারা লেবাননের আরও ভূখণ্ড দখল করে একটি ‘বাফার জোন’ (নিরাপদ অঞ্চল) তৈরি করতে চায়।