সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ শুরু

দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে দেশের ৫৫তম এই মেগা বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন শুরু করেন তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এটিই প্রথম জাতীয় বাজেট।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা ও ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের এই বিশাল পরিকল্পনা সাজিয়েছে সরকার।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসের রেকর্ড ঘাটতি। এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এবারের বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ছয় শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বিশেষ সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট অনুমোদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাজেট অনুমোদনের পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও মন্ত্রিসভায় বাজেট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

দুপুরের পর প্রথা অনুযায়ী ব্রিফকেস হাতে নিয়ে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসের ১৫তম ব্যক্তি হিসেবে বাজেট উপস্থাপনের গৌরব অর্জন করলেন তিনি। আগামী এক জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।