যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির সমঝোতার খসড়া ও সামগ্রিক বিষয়বস্তু নিয়ে যখনই আমরা নিশ্চিত হবো যে, এটি ইরানি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে, তখনই আমরা তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবো বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান চুক্তির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনায় চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অনুমোদন করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানে ‘খুবই কঠিন’ হামলার যে হুমকি দিয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনা স্থগিতের কথা জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এ দাবি একরকম নাকচ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও অনুমান সম্পর্কে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের পরিবর্তনশীল অবস্থান নতুন কোনো বিষয় নয়।
তিনি আরও বলেন, গত দুই-তিন মাসে, অর্থাৎ গত দেড় বছরে আমরা মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখেছি, যা বারবার ঘটেছে। আলোচনার বিষয়ে ইরান বহুবার জানিয়েছে যে, তারা সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।
শুরু থেকেই এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমাদের যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা মূলত মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী নীতির কারণে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার সময় এখন পর্যন্ত দুইবার তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে এবং অসংখ্য অপরাধ করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত দুই মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সরকার উভয়ই বহুবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এমনকি সাম্প্রতিক দুই-তিন রাতেও দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের অবকাঠামোগত স্থাপনায় মার্কিন সামরিক হামলা এবং সিরিক এলাকার দুটি পানির ট্যাংকে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা দেখছি, একই সময়ে তারা কূটনীতি ও আলোচনার কথা বলছে, আবার শক্তি প্রয়োগ, অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক পদক্ষেপের আশ্রয় নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার পরিস্থিতি শুরু থেকেই আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল। এর আগে আমরা বলেছিলাম যে, চুক্তির মূল অংশের খসড়ার বেশিরভাগই প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন প্রতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা নতুন কোনো দাবি উত্থাপন করেন অথবা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেন—হোক তা তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কিংবা গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে।