শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থীর সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা, কাঁদানে গ্যাস, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে আহত শতাধিক বিক্ষোভকারী—বিজেপি সরকারের জন্য গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বেড়া রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিক্ষোভ। আর এই টালমাটাল পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের প্রধান ‘মধ্যস্থতাকারী’ বা সঙ্কেটর মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক বিজেপি সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের শুরুতে বিজেপির শীর্ষ সভাপতির পদ ছাড়ার পর লাইমলাইট থেকে কিছুটা দূরে থাকা এই প্রবীণ নেতাকে এবার বেশ সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, হাসপাতালে আহত বিক্ষোভকারী ও পুলিশ কর্মীদের দেখতে যাওয়া এবং আন্দোলনরত অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে মধ্যরাতের আলোচনা—সবকিছুতেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাড্ডা।
সঙ্কট নিরসনে অন্য জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের বদলে কেন জেপি নাড্ডাকেই বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অভ্যন্তরে নানা বিশ্লেষণ তৈরি হয়েছে।
সোমবার রাজপথে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনার পর নাড্ডা নিজেই সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং বিক্ষোভ স্থগিতের অনুরোধ জানান। এরপর আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে তিনি সরাসরি আরএমএল ও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে যান। মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে সঙ্গে নিয়ে গুরগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে গিয়ে কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
বিজেপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়া একদিকে সরকারের দায়িত্বশীলতা প্রকাশ করে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তাপ কমাতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বিজেপি সূত্রে জানা যায়, নাড্ডার পরিমিত কণ্ঠস্বর, বিনয়ী আচরণ এবং ছাত্র রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই তাকে এই পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য করে তুলেছে। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধ মীমাংসায় তার আলোচনার দক্ষতা প্রমাণিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মতো সরকারের একদম শীর্ষ সারির মন্ত্রীদের এই আলোচনার টেবিলে পাঠালে উল্টো বার্তা যেতে পারতো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে হাতি, ঘোড়া, নৌকা, মন্ত্রীর মতো বড়ো বড়ো গুটি থাকলেও বর্তমান সময়ের নাড্ডার মতো ‘বোড়ে’ এগিয়ে দিয়ে তিনি হয়তো সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছেন।
দলীয় এক সূত্রের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আলোচনার জন্য পাঠালে পুলিশি পদক্ষেপের কারণে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকি ছিলো। আবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পাঠালে মনে হতো সরকার দেশে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জরুরি অবস্থা বা বড়ো ধরনের প্যানিক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, যুব মোর্চার বর্তমান সভাপতি নিতিন নবীনকে পাঠালে বিষয়টিতে সরকারের চেয়ে ‘রাজনৈতিক মাত্রা’ বেশি প্রকাশ পেতো। তাই জেপি নাড্ডাকে সামনে রেখে সরকার দুটি লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে—একদিকে প্রমাণ করা গেছে সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি ‘অসংবেদনশীল’ নয়, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের খুব বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত মাথায় তোলাও হয়নি।
বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুরো বিষয়টি তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন জেপি নাড্ডা। তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা বেছে বেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজনীতি করছে, অথচ বিরোধী দল শাসিত একাধিক রাজ্যেও একইভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।