শক্তিশালী ভূমিকম্পে জাপানে শপিং মলে বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎহীন হাজার হাজার ঘরবাড়ি

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কুমামোতো অঞ্চলের একটি শপিং মলে রহস্যজনক বিস্ফোরণ এবং ধসে পড়া ভবনের নিচে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট নানা দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪:২৭ মিনিটে ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানা এই শক্তিশালী কম্পনের পর স্থানীয় সড়ক ও সেতুতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয় এবং বেশ কিছু ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কের মুখে প্রায় ৩ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে উচ্ছেদ ও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। ঘটনার পরপরই জারি করা স্বল্পমেয়াদী সুনামি সতর্কতা অবশ্য এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

Earthquake Hits Japan 04
সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কুমামোতোর 'আয়ন মলে'। ভূমিকম্পের পরপরই বহুতল এই শপিং মলটিতে একটি বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে পুরো এলাকা ছেয়ে যায়। পাশের এক রেস্তোরাঁ কর্মী প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের শব্দ ও ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন চারপাশে আগ্নেয়গিরির ছাই ঝরে পড়ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মলটির ভেতরে এখনো কয়েকজন আটকা পড়ে আছেন এবং তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

Earthquake Hits Japan 07
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা এ তাকাইচি টোকিওতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের পরিমাপ করার চেষ্টা করছি। বেশ কিছু স্থানে আগুন লাগা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, রাস্তা ও সেতু ভেঙে পড়া এবং ভবন ধসের খবর এসেছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় এলাকাটির অন্তত একটি হাসপাতালে ৫০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতিশীল হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রীও ঝাঁকুনিতে আহত হয়েছেন। সুরক্ষার খাতিরে ট্রেন ও বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

Earthquake Hits Japan 10
এছাড়া বিশ্বখ্যাত চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি, সনি এবং ফুজিফিল্ম ওই অঞ্চলের তাদের কারখানাগুলো থেকে কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল কম গভীরে হওয়ায় আগামী এক সপ্তাহ জুড়ে শক্তিশালী আফটারশক এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত হওয়ার কারণে বিশ্বে ঘটে যাওয়া ৬.০ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ২০ শতাংশই জাপানে সংঘটিত হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স