সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, হামলার দাবি ইয়েমেনের

সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ। এর আগে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে একাধিক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছিল। যদিও এ ঘটনায় এখনও সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আরব জার্নালের বরাত দিয়ে তেহরানভিত্তিক পার্সটুডে জানায়, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য উদ্ধৃত করে ব্লুমবার্গ বলেছে, সোমবার 'সেন্টিনেল-২' স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনার ভেতরে ধোঁয়া এবং অগ্নিকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত দেখা গেছে। ছবিতে স্থাপনার কয়েকটি অংশে আগুনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও ধরা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি হিসেবে পরিচিত আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখে। সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত এই স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা বা অগ্নিকাণ্ড বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে সোমবার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেন। 

তিনি বলেন, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত তেল সরবরাহ ও পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অবকাঠামো এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইয়াহিয়া সারির দাবি, ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের শত্রুপক্ষীয় ড্রোনের অনুপ্রবেশের জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের হামলা চলবে।

এদিকে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সম্প্রতি সৌদি আরবকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। 

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকলে তার কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। গত ১২ বছরে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় নিহত হাজারো ইয়েমেনির রক্তের হিসাব দেশটির জনগণ কখনো ভুলবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রিয়াদের বিমানবন্দর এবং ইয়ানবু, জিজানসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে, যেমনটি দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর ও হোদেইদাহ বন্দরে দেখা গেছে।

তবে আবকাইকের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে ইয়েমেনের দাবি করা ড্রোন হামলার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। একইভাবে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাও ঘটনাটির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করেনি।