ইরানের কেশম দ্বীপে চলমান মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আহমেদ আল-জাবেরে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে ইরান।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
ইরনা'র উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ‘সায়েকা’ (বজ্রপাত) অভিযানের ২৭তম ধাপে এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা ও দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে আবাসিক বাড়িঘরে হামলার জবাবে শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে ইরানি সেনাবাহিনীর আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে কুয়েতের আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটিতে অবস্থিত যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জামের গুদামে হামলা চালানো হয়।
কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিটি আমেরিকার বিমান ও নজরদারি অভিযানে প্রধান ভূমিকা পালন করে এবং অপারেশনাল ভূমিকার বাইরেও এটি মার্কিন বাহিনীর বিমান সহায়তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ কেশম দ্বীপে বেসামরিক নাগরিকদের বাসস্থানে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে মানবিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং প্রতারক শত্রুর যুদ্ধাপরাধের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে।
তেহরান বলছে, এই অপরাধ, নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকিগুলো ইরানকে তার পবিত্র প্রতিরক্ষায় আরও ঐক্যবদ্ধ ও সংহত করবে।
ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ আরও বলেছে, সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যাপক ও ধারাবাহিক হামলার ফলে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠেছে। যার ফলে খবিস শত্রু তীব্র সেন্সরশিপের মাধ্যমে ক্ষতি, হতাহত ও আহতদের খবর প্রকাশে বাধা দিতে বাধ্য হচ্ছে।