ইরান কি ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষযসহ একটি শান্তি চুক্তি হওয়ার দাবি করলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা বন্ধের ঘোষণার পর দেওয়া ওই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সামরিক সূত্র।

রোববার (২ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে ইরানের আলোচনা দলের এক সদস্যকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, তেহরান এমন কোনো যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়নি যেখানে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিলো, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন-কাতারি একটি সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন, যার অধীনে ওমান ও ইরানের মধ্যে প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ ভাগ করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইসরাইলি ওই দাবি খণ্ডন করে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে কোনো ধরনের চুক্তি হয়নি। 

এক সামরিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়নি। এতোদিন ধরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভিত্তিহীন। সূত্রটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যতোদিন তাদের বৈরী কর্মকাণ্ড বজায় রাখবে, ততোদিন কৌশলগত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধই থাকবে।

একই সঙ্গে জানানো হয়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে পূর্ব-সমন্বয় ছাড়া চলাচলকারী যেকোনো জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

অন্যদিকে, ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিলো। তবে একটি চুক্তির কাঠামোর পরিধিতে দুই পক্ষ সম্মত হওয়ার পর তার প্রশাসন হামলা থেকে বিরত থেকেছে।

পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন রণাঙ্গনে সংঘাত থামাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। তবে কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকার পর সম্প্রতি সংঘাত ফের তীব্র আকার ধারণ করে এবং তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী নৌচলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত নৌ অবরোধ বজায় থাকায় তেহরানের এই সাম্প্রতিক অস্বীকৃতি বৈশ্বিক জ্বালানি ও জাহাজ চলাচল খাতকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।