কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী সাত দশমিক চার মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬৬৮ জন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালাচ্ছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।
কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায় ছিল এর উৎপত্তিস্থল।
ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালী, পেরেইরা, মানিজালেস ও চোকো। কালী শহরে অন্তত ৯৫ জন এবং পেরেইরায় ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কালীতে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মানিজালেসে ঐতিহাসিক একটি ক্যাথেড্রালের অংশ ধসে পড়েছে।
ভূমিকম্পের পর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কায় শুরু থেকেই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়।
এখন পুলিশ, সেনাবাহিনী, দমকলকর্মী, চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি বাড়িঘর, হাসপাতাল, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ এখনও বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়নি এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে।
এর আগে কলম্বিয়া সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। রাজধানী বোগোতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তার জন্য বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।