ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ক্রুদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নৌসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। সংঘর্ষে ছুরি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রেস টিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে রণতরীটি মোতায়েন থাকায় ক্রুদের মধ্যে অসন্তোষ ও চাপ বাড়ছিল। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের একজন উপদেষ্টা রণতরীটিতে গেলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
ওই উপদেষ্টা ক্রুদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয় এবং পানির বোতল ছোড়া হয় বলে প্রতিবেদনে বলে হয়েছে। পরে ক্রুদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তা সহিংস রূপ নেয়। একপর্যায়ে ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য রয়েছেন আব্রাহাম লিংকনে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান, খাবারের সংকট, লন্ড্রি সুবিধা বন্ধ থাকা এবং গোসলের স্থানে ছত্রাকের সমস্যাসহ নানা কারণে ক্রুদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
রণতরীটির ক্রুদের পরিবারের সদস্যরাও এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সান দিয়েগোতে সম্প্রতি প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনী সচিব হাং কাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করে দীর্ঘ মোতায়েন, মানসিক চাপ এবং দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময় না থাকার বিষয়ে অভিযোগ করেন।
আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রণতরীটি টানা ২০৮ দিন সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক সময়ে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘতম ধারাবাহিক মোতায়েনগুলোর একটি।
এদিকে, রণতরীটিতে এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দীর্ঘ সামরিক মোতায়েন এবং ক্রুদের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সামরিক উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরে রণতরীটির দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোনকে মার্কিন যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস রণতরীটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করলেও পেন্টাগন তা প্রত্যাখ্যান করে।