মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কয়েকজন নাবিক ও মেরিন সেনা সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে জাহাজটির প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিনের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনযাপন নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের বরাতে তেহরানভিত্তিক পার্সটুডে জানিয়েছে, জাহাজটিতে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার একাধিক চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে। নাবিকেরা টানা ২৫০ দিন কোনো বন্দরে না নেমে সমুদ্রে রয়েছেন। আধুনিক সময়ে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য এটিকে দীর্ঘতম মোতায়েনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিকের স্বজন দীর্ঘ মোতায়েন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এক নাবিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী তাকে মেসেজ করে লিখেছিলেন, “সম্ভবত আগামীকাল ঘুম থেকে উঠব না।”
আরেকজন জানান, দীর্ঘদিনের চাপের কারণে তার স্বামী সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
জাহাজের জীবনযাত্রার পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান মাইক লেভিন বলেন, সেখানে ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, নষ্ট টয়লেট, কয়েক সপ্তাহ ধরে অচল লন্ড্রি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ সময় গরম পানির সংকট রয়েছে। খাবারের মান ও সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
আব্রাহাম লিংকন গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের কথা থাকলেও পরে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক সংঘাতের মধ্যে জাহাজটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয়। মে মাসে মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা বাড়ানো হয়।
এদিকে, জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে আগের অভিযোগগুলোকে মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে নতুন অভিযোগের পর নাবিকদের কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে গেলো সপ্তাহে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন মার্কিন নৌসেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে ওই ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।