পেট্রোলের উচ্চমূল্য ‌‘অল্প একটু কষ্ট’, মেনে নিন: আমেরিকানদের ট্রাম্প

একদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানকে ‘অত্যন্ত দুষ্টু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে চলমান যুদ্ধের কারণে আমেরিকানদের পেট্রোলের উচ্চমূল্য মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাত শুরু করে। জুনে হওয়া একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত সংঘাত অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এই প্রণালী শুধুমাত্র ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ করা হবে। যতোক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন এবং অলীক কল্পনায় মগ্ন থাকা বন্ধ করছেন, ততোক্ষণ ইরান এই অবরোধ বলবৎ রাখবে। 

তিনি আরও বলেন, একটি টুইট, বিমানবাহী রণতরী বা নির্বাচনী ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালী দখল করা যাবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পেট্রোলের দাম এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সেখানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়ায় চার দশমিক শূন্য আট ডলারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহেই পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ বেড়েছে। নিউইয়র্কের এক রাজনৈতিক সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি অতীব দুষ্ট দেশ যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই যুদ্ধ। তাই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্য সামান্য বৃদ্ধি মেনে নেওয়া যুক্তিযুক্ত।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি স্থানীয় ‘শাহরারা নিউজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেননি। বিশ্বে সরবরাহকৃত তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে জাহাজ চলাচল শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্ত পূরণ করতে হবে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে কঠোর অবরোধ বলবৎ রয়েছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ চলত, সেখানে শুক্রবার এই প্রণালী দিয়ে মাত্র দুটি জাহাজ যাতায়াত করেছে এবং কোনো অপরিশোধিত তেলের চালানের সন্ধান মেলেনি। অনুমতি ছাড়া যাতায়াতের চেষ্টা করায় সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার একটি বাল্ক ক্যারিয়ারে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার।

দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধের প্রভাবে দুই দেশেই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানান, মার্কিন অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিপরীতে, ট্রাম্প এবং মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে আরও কঠোর আর্থিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী মোচা বন্দর শহরে ইরান-সমর্থিত হুথিরা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে চারজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি, সৌদি আরবের নাজরান শহরে আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর কথা দাবি করেছে হুথি পরিচালিত সংবাদ সংস্থা।