মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আগের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও উন্নত ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তিতে আরও উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।
মোহেবির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্রের ওয়ারহেডগুলোর ধ্বংসক্ষমতা আগের সংঘাতে ব্যবহৃত ওয়ারহেডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু ধ্বংসক্ষমতা নয়, ভবিষ্যৎ অস্ত্র ব্যবস্থায় নির্ভুলতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লাতেও পরিবর্তন আনার দাবি করেছেন তিনি।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ইরান কখনো বন্ধ করেনি। বরং প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ও ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক অস্ত্রের উন্নয়ন করা হচ্ছে।
তার দাবি, ইরানের লক্ষ্য হচ্ছে আরও নির্ভুল, বেশি ধ্বংসক্ষম এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত অস্ত্র তৈরি করা।
মোহেবি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো অতীতের অস্ত্রের মতো হবে না। পরিবর্তন দেখা যেতে পারে ওয়ারহেডের নতুন প্রজন্ম, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের নির্ভুলতা, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কিংবা অস্ত্রের অন্যান্য সক্ষমতার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ সম্ভাব্য নতুন সংঘাতে ইরান আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ইরান সামরিক প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার বক্তব্যে মূলত সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বার্তাই উঠে এসেছে।
এর আগে চলতি বছরের জুনেও মোহেবি বলেছিলেন, কোনো শত্রুপক্ষ আবার সামরিক সংঘাতে ফিরলে যুদ্ধের ধরন, যুদ্ধক্ষেত্র এবং ব্যবহৃত অস্ত্র—সবকিছুই আগের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। সে সময়ও আইআরজিসি সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।
নতুন এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ফলে আইআরজিসির এই বক্তব্যকে শুধু সামরিক সক্ষমতার ঘোষণা নয়, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।