নেপালে আকস্মিক বন্যা: নিহত বেড়ে ৫৫, নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয়সহ চার শতাধিক

নেপালে তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি নদী ভোটে কোশীতে আকস্মিক ঢল ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে চার শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১৩৩ জনই ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।

বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাধি এলাকায় হঠাৎ এ বন্যা দেখা দেয়। মুহূর্তেই তীব্র স্রোত ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ পানির তোড়ে নিখোঁজ হন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সকালে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের পর তুষারধসের সৃষ্টি হয়। ওই ধসের ফলে পাহাড়ি নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বন্যার পানিতে কেরুং কাস্টমস অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও বাজার। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।  

দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকা থেকে ৮৫ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় দুর্গতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলোকে।

এদিকে, বন্যার পরও নতুন করে আকস্মিক ঢলের আশঙ্কা রয়েছে। নদীর উজানে ধসের কারণে পানি আটকে থাকায় যে কোনো সময় নতুন করে পানির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপালে অবস্থানরত ভারতীয়দের অনেকেই এখনও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। ইন্ডিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের সন্ধানে যোগাযোগ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সরকার উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।