আমেরিকাকে নিয়ে চীনা নস্ট্রাডামাসের পাঁচটি ভবিষ্যদ্বাণী!

বিশ্ব রাজনীতি আর অর্থনীতির আকাশে এক ঘনীভূত কালো মেঘের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন চায়নিজ-কানাডিয়ান অধ্যাপক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েকিন। ইন্টারনেটে যিনি 'চীনের নস্ট্রাডামাস’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল 'প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি'-তে গেম থিওরি ও ঐতিহাসিক কাঠামোর সমন্বয়ে নিখুঁত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর আগেও ২০২৪ সালে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতের সফল পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি।

অতি সম্প্রতি এক পডকাস্ট এবং আমেরিকার টেক্সাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৭ সাল ও তার পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে চরম ভীতিজনক পাঁচটি সংযুক্ত পূর্বাভাসের কথা শোনালেন এই বিশ্লেষক।

অধ্যাপক জিয়াংয়ের মতে, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি পররাষ্ট্রনীতির মারাত্মক ভুল কীভাবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোকে তাসের ঘরের মতো ধসিয়ে দেবে, তারই শিকল বিক্রিয়া বা চেইন রিয়্যাকশন।

China Future 04
প্রফেসর জিয়াংয়ের পাঁচটি ভয়ংকর পূর্বাভাস

১. মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ: জিয়াংয়ের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিমান হামলাগুলো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনতে পারবে না। বাধ্য হয়ে ওয়াশিংটন পূর্ণ মাত্রায় পদাতিক বা গ্রাউন্ড ফোর্স পাঠাবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও ধ্বংসাত্মক এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আটকে পড়বে আমেরিকান সামরিক বাহিনী, যেখান থেকে জয় নিয়ে বের হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

২. বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু: যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ২০২৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আইনি ভিত্তি আবার ফিরিয়ে আনা হবে। ফলে, দেশের তরুণদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করা হতে পারে।

৩. আইসিই ও ন্যাশনাল গার্ডের কঠোর নিয়ন্ত্রণ: সামরিক চাপের প্রভাবে স্বদেশের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে আমেরিকান ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট- আইসিই এর ক্ষমতা সীমাহীনভাবে বাড়ানো হবে। সাধারণ মানুষকে দমন করতে বড় বড় শহরগুলোতে নিয়মিত ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হবে।

৪. বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মহাধস: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট 'হোরমুজ প্রণালী' অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। তেল, গ্যাস এবং সারের দাম রেকর্ড পরিমাণে আকাশচুম্বী হবে। বিশ্বব্যাপী সরবরাহের শিকল বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে ব্যাপক খাদ্যসংকট এবং চরম মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে।

৫. আমেরিকার ভেতরে দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ: অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বাধ্যতামূলক সামরিক ড্রাফট এবং রাজপথে ভারী অস্ত্রের বুটের শব্দ, এসব মিলে আমেরিকার ভেতরে এক অগ্নিকুণ্ড তৈরি করবে। ২০২৭ সালের মধ্যে আমেরিকায় পুরোদমে সংঘাত, ব্যাপক দাঙ্গা এবং গৃহযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হবে।

China Future 02
ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদ এবং মার্কিন ‘বলকানাইজেশন’

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের চোখ কপালে তুলে দিয়ে জিয়াং দাবি করেছেন, এসব চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার 'তৃতীয় মেয়াদে' প্রবেশ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হওয়া নিষিদ্ধ হলেও, ট্রাম্প ও তাঁর অনুগামীরা যেভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

প্রফেসর জিয়াং আরও ধারণা করছেন, গৃহযুদ্ধের পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় রাজ্যগুলো খণ্ড-বিখণ্ড বা 'বলকানাইজড' হয়ে পড়বে। ফলে নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ঐতিহ্যবাহী শহরগুলো গুরুত্ব হারাবে এবং টেক্সাসের অস্টিন শহরটি দেশটির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পূর্বাভাস ইতিহাস ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা পুরোপুরি মিলে যাওয়া অনিবার্য নয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি