ইরানি অস্ত্র-সহায়তায় মোখা দখল হুথিদের, দাবি সূত্রের

ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলে হুথিদের ইরানের বিপ্লবী গার্ড সামরিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দিয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি, ইরানি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্র।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সরাসরি নির্দেশনায় লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা দখল করে হুথিরা। অভিযানে ইরানের সরবরাহ করা নতুন অস্ত্র, বিশেষ করে ড্রোন, ব্যবহারের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিশ্লেষকরা।

মোখা দখলের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে। ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর বাব আল-মান্দাবে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই ইরানি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান হুথিদের সৌদি আরবে হামলা বাড়ানোর নির্দেশ দেয় এবং এজন্য আরও অর্থ, অস্ত্র ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার এরই মধ্যে ইয়েমেনে গিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলার পরিকল্পনা ও কৌশল তদারক করেছেন বলেও এক আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন।

তবে ইরান প্রকাশ্যে হুথিদের সামরিক নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, মোখায় অভিযানটি হুথিদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল। তবে এর মাধ্যমে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পাঁচ সামরিক সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরের তিহামা উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের নতুন অভিযানে বিপ্লবী গার্ডের নির্দেশনা ছিল। অভিযানটি শুরু হয় ব্যাপক রকেট হামলার মধ্য দিয়ে।

যোগাযোগের আড়িপাতা তথ্য ও আটক হুথি যোদ্ধাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ইয়েমেনি সামরিক সূত্রগুলো বলেছে, ইরানের এই সহায়তা বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ কমান্ডার আবদোলরেজা শাহলায়ি পরিচালনা করছেন বলে তারা মনে করছে। তবে ইরানি সূত্রগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে হুথিদের মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ইয়েমেন সরকার সৌদি আরবের কাছে আরও বিমান সহায়তা চেয়েছিল। তবে রিয়াদ মূলত লজিস্টিক, অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি জাওফ ও মারিব প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় ফ্রন্টে সীমিত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর ধরে বড় ধরনের যুদ্ধ কিছুটা থেমে থাকলেও ইয়েমেনের সামগ্রিক সামরিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। সৌদি-সমর্থিত বাহিনী এবার হুথিদের কাছ থেকে মোখা ও তিহামা উপকূলীয় এলাকা সহজে পুনর্দখল করতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।