কিমের তত্ত্বাবধানে ‘নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা’, কী বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় ‘নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা’ চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাটি সম্পন্ন হলেও, অস্ত্রটি আসলে কী, এর ধরন ও সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত কিছুই জানায়নি পিয়ংইয়ং।

গেলো রোববার উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যুরো এই পরীক্ষা চালায়। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি—কেসিএনএ—বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে কেসিএনএ বলছে, পরীক্ষাটি ছিল অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ‘সুস্পষ্ট প্রদর্শন’।

কিম জং উনের ভাষায়, নতুন এই প্রযুক্তি দেশটির সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে বড় অগ্রগতি। তার দাবি, এমন সক্ষমতা শত্রুদের জন্য ‘নিরাময়-অযোগ্য মাথাব্যথা’ এবং ‘নিষ্ঠুর ও অনিবার্য আঘাত’ ডেকে আনবে।

তবে ঠিক কী পরীক্ষা করা হয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়নি পিয়ংইয়ং। ফলে নতুন অস্ত্রটি ক্ষেপণাস্ত্র, নাকি অন্য কোনো অস্ত্রব্যবস্থা—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত ছবিতে কিমকে একটি পর্দার সামনে দেখা যায়। সেখানে ‘হোয়াসংফো-১১এমএ-১-এর উড্ডয়ন গতিপথ’ লেখা ছিল। এ কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি হাইপারসনিক প্রযুক্তি যুক্ত নতুন কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ হতে পারে। তবে অস্ত্রটির প্রকৃত ধরন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পিয়ংইয়ং।

এর মাত্র দুই দিন আগে উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের জলসীমায় দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে জানায় দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়টি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর হিসাব। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া—দুই দেশই এই উৎক্ষেপণের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এটাই অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের একমাত্র অস্ত্র পরীক্ষা নয়। চলতি বছর একাধিকবার নতুন বা উন্নত অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

জুনে কিমের তত্ত্বাবধানে উন্নত রকেট লঞ্চার, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ ওয়ারহেড এবং দূরপাল্লার গোলার পরীক্ষা চালানোর কথা জানায় কেসিএনএ। জুলাইতেও নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ কামান ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের পরীক্ষা চালানো হয়।

ফলে একের পর এক পরীক্ষার মধ্যেই এবার ‘নতুন ধরনের অস্ত্র’ পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে পিয়ংইয়ং। কিন্তু আগের পরীক্ষাগুলোর মতো এবারও অস্ত্রটির পূর্ণ সক্ষমতা বা প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার এমন নিয়ন্ত্রিত তথ্য প্রকাশের কারণেই নতুন এই অস্ত্র ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার—আইএইএ—পরমাণু কার্যক্রম বন্ধের আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছে। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা দেশের আইনে ‘অপরিবর্তনীয় ও স্থায়ীভাবে নির্ধারিত’।

এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বিলুপ্তির বদলে আপাতত তা স্থগিত রাখার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে পিয়ংইয়ং এখনো তার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

সব মিলিয়ে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিকতার মধ্যেই কিমের তত্ত্বাবধানে নতুন এই অস্ত্র পরীক্ষা। কিন্তু অস্ত্রটি ঠিক কী এবং এর প্রকৃত সক্ষমতা কতটা—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।