নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার এবং তোপ দাগানোর মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের গভীর সংঘাত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকির কড়া জবাব দিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের আগ্রাসী চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না তাঁর দেশ।
ওয়াশিংটনের নীতিকে 'দাদাগিরি মানসিকতা' হিসেবে অভিহিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তা সত্ত্বেও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পরোক্ষভাবে কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে উভয় পক্ষ।
কূটনৈতিক এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন নৌ-অবরোধ ইস্যু। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের পাঁচভাগের একভাগ যা দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও শুল্ক আদায়ের দাবি তুলে ধরেছেন পেজেশকিয়ান।
ওয়াশিংটন এই দাবি সরাসরি নাকচ করে মার্কিন নৌ-অবরোধ বজায় রাখায় তেহরানের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে। এর জবাবে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতে ইরানের বিমান বন্ধ করার মার্কিন হুমকিকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হুঁশিয়ার দিয়েছে, অন্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে আশপাশের কোনো দেশের বিমানবন্দরও সচল থাকতে দেওয়া হবে না। এই বাগযুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যেখানে তেলের দাম ফের প্রায় দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যেও পর্দার আড়ালে চলেছে পরোক্ষ আলাপ-আলোচনা। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই ঘণ্টা ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান হয়েছে।
বার্তা বিনিময়ে কাতারভিত্তিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের যোগাযোগ অনুষ্ঠিত হয়।
অবশ্য সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও কট্টরপন্থীদের চাপের কারণে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে মুখোমুখি বসা থেকে বিরত থেকেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও রাজনৈতিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও, দুই পরাশক্তিই স্বীকার করেছে, অবস্থানের বড় ব্যবধান থাকলেও আপাতত যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র ভরসা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স