পুলিশের বাসের চাকা পাংচার করে দিলো কংগ্রেস সমর্থকরা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং 'ভোট চুরি'র গুরুতর অভিযোগে রাজধানী দিল্লিতে চরম নাটকীয়তা ও টানটান উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে! ক্রমাগত দ্বিতীয় দিনের মতো বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লির রাজপথে হুঙ্কার ছেড়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

বিরোধী শিবিরের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশি হামলা, টানাটানি, বাসের চাকা পাংচার এবং নাটকীয় গ্রেপ্তার কেন্দ্র করে পুরো মধ্য দিল্লি বুধবার কার্যত এক রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়!

Rahul & Priyanka 4
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার দুপুরে দিল্লির জানপথের বিখ্যাত ‘সাগর রত্না’ রেস্তোরাঁয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে বিরোধী জোটের প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য এক বিশেষ 'কৌশল নির্ধারণী লাঞ্চে মিলিত হন।

সেখান থেকে দুপুরের খাবার শেষ করে বাসে চড়ে তারা যখন পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তরমন্তরের দিকে রওনা হন, তখনই পুলিশ চারদিক থেকে ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেয়। পুলিশি বাধার মুখে পড়ে রাজপথেই চরম ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিরোধী এমপিরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস সমর্থকরা পুলিশের একটি বাসের চাকা পাংচার করে দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

Rahul & Priyanka 5
পুলিশ জোরপূর্বক নেতাদের টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলতে শুরু করলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরাসরি রাজপথে শুয়ে পড়েন এবং পুলিশি ঔদ্ধত্যের তীব্র বিরোধিতা করে গর্জে ওঠেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কি অপরাধীদের মতো আচরণ করা হয়? এটি নজিরবিহীন! আমরা এখান থেকে এক চুলও সরব না। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীকে পুলিশ উদ্ধার করে অন্য একটি বাসে তুলে বারাখাম্বা রোড পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়।

এর আগে মঙ্গলবার আকাশবাণী ভবনের ভেতর ৮ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট করার অপরাধে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে খোঁচা মেরে রাহুল গান্ধী বলেন, আমার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ৪৫টি এফআইআর রয়েছে। আমার আসল লক্ষ্য এটিকে ১০০-তে নিয়ে যাওয়া! এফআইআর দিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। মোদিজি, অমিত শাহজি, মোহন ভাগবত আর জ্ঞানেশ কুমার মিলে এ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে জ্ঞানেশ কুমার কোনো বৈধ নির্বাচন কমিশনার নন!

Rahul & Priyanka
কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল ও এমপি জ্যোতিমণি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, বিরোধী দলনেতাকে অপরাধীর মতো রাস্তা দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা এমন হাজারও এফআইআরকে ভয় পাই না।

আর, খাড়গে ঘোষণা করেছেন, রাজপথের লড়াই এবার জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের এই সর্বাত্মক যুদ্ধ ভারতকে এখন এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে!

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি