মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কা!

মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইরান তাদের প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ নিয়ে গেছে এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য তেহরানের তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। রয়টার্সের দেখা এক গোপন স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জয় ক্ল্যাটন এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো গত ২৩ অক্টোবরের ওই স্মারকে জয় ক্ল্যাটন স্পষ্ট উল্লেখ করেন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে যে ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তাদের প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

Iran Missile
মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য কিছু দেশে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে তাদের এই প্রাণঘাতী চক্রান্তের পরিকল্পনা চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও কপি করা এই বার্তাটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’।

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গত আট মাস ধরে চলতে থাকা আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি হুতি বাহিনীর ক্রমাগত তীব্র আক্রমণ ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই বেশ বেকায়দায় রয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে আবার বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করে, তবে তেহরান এবার আরও সুদূরপ্রসারী ও জোরালো জবাব দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

Iran Underground 2
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও মিশনগুলো থেকে জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।

একই সঙ্গে শনিবার সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি বা ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা পরিবেশের তথ্য আমরা প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করছি। হুতিদের হামলা এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ইরানি চক্রান্তের হুমকির বিষয়টি মাথায় রেখেই ‘রেস্ট্রিক্টেড অপারেশনস’ স্ট্যাটাসে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দূতাবাসে কর্মী সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে দিয়ে ইরান যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।