ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও তা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৩ সালের সাত অক্টোবর হামাসের হামলার পর দেশটিতে অনুষ্ঠিত এই প্রথম নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কোনো স্পষ্ট বিজয়ী উঠে আসেনি।
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ৫৭ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ১২০ সদস্যবিশিষ্ট নেসেটে (পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন বলছে, প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৯টি আসন এবং আরব দলগুলো লাভ করেছে ১৬টি আসন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের আগের কিছু প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৫ এবং আইজেনকোটের জোট ৫০টি আসন পাওয়ার কথা বলা হয়েছিলো। আরব দলগুলোর আসন সংখ্যা ছিল ১৫।
এদিকে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল অস্পষ্ট হওয়ার পর নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয়েই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন। জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির নির্বাচনী সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু একটি ‘শক্তিশালী, ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহবান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি ইসরাইলের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী সাফল্যের পেছনে নিজের সমর্থনের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিষয়টি বেশ হাড্ডাহাড্ডি ছিলো... আমার মনে হয়, সমর্থন ঘোষণার বিষয়টি তাকে বেশ সাহায্য করেছে।
অপরদিকে, বিরোধী নেতা ও ‘ইয়াশার’ দলের প্রধান গাদি আইজেনকোট দাবি করেছেন যে, ভোটাররা দীর্ঘদিনের এই ইসরাইলি নেতাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার আহবান জানিয়ে আইজেনকোট বলেন, নেতানিয়াহু এখন একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী, যার পেছনে কোনো জনরায় বা জনগণের আস্থা নেই।
ইসরাইলের খণ্ডিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ছোট দলগুলো জোট গঠনের আলোচনায় ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক শক্তি হয়ে ওঠে। তবে নেতানিয়াহুর জোট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রায় নাকচ করে দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের সদস্য ওফের কাসিফ বলেছেন, আরও নির্বাচন মানেই নেতানিয়াহুকে উপহার দেওয়া। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পরিবর্তনকামী জোটের হাতে।
দীর্ঘস্থায়ী এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরালি মুদ্রা ‘শেকেল’-এর মান কিছুটা কমে গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৭.৭ শতাংশ, যা গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় সাত শতাংশ বেশি। আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের সদস্যদের মধ্যে ভোট প্রদানের হার ছিল ৭৯.৯ শতাংশ।
এদিকে নির্বাচনের মধ্যেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সার্বিয়ার বেলগ্রেডে ইসরাইলি দূতাবাসের এক নিরাপত্তারক্ষী হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে ইসরাইলে পুনরায় নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে সম্ভবত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।