ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের অন্দরে নজিরবিহীন বিভক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে উভয় পক্ষের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি এই অঞ্চলকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা সংযত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন, অন্যদিকে প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটররা দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। গ্রাহাম সতর্ক করে বলেছেন, "অশুভ শক্তিকে বিনা বাধায় বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না।
তিনি ট্রাম্পের সেই সব উপদেষ্টাদের সমালোচনা করেছেন যারা এই মুহূর্তে যুদ্ধ এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রাহামের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ভয় থাকলেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি। ইরানে এই পরিবর্তন আগামী কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটা উচিত।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরি 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড' বর্তমানে জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে পশ্চিম এশিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
অন্যদিকে, ওমান উপকূল থেকে মাত্র ১৫০-৩০০ মাইল দূরে আরব সাগরে অবস্থান করছে আরেক শক্তিশালী রণতরি 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে শত শত সেনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা একটি সম্ভাব্য 'লিমিটেড স্ট্রাইক' বা সীমিত হামলার আগাম সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির মুখে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে।
এদিকে সৌদি গণমাধ্যম আল-আরাবিয়ার দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক কমান্ডের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পস (আইআরজিসি)। খবর পাওয়া গেছে, আইআরজিসি কর্মকর্তারা লেবাননের বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর মিসাইল ইউনিটের সাথে নিয়মিত বৈঠক করছেন। উল্লেখ্য যে, এই অঞ্চলটিতে গত রাতেই ইসরাইল ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরেই এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও তারা বলছে যে, ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত 'শূন্য সমৃদ্ধকরণ'-এর দাবি তোলেনি, কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট এখন চরমে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে এবং ইরান কীভাবে এর জবাব দেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য তথা পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতা।