এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে গিয়েছিলেন স্টিফেন হকিং!

শেষ পর্যন্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের অন্ধকর গহ্বরে স্টিফেন হকিং! জেফরি এপস্টাইন মামলার নথিপত্র থেকে সম্প্রতি প্রয়াত বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। এসব ছবিতে হকিংয়ের দুই পাশে বিকিনি পরিহিত দু’জন নারীকে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলো নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধলেও হকিং পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের গোপন নথিগুলো একে একে প্রকাশ্যে আসার পর সেখানে বিশ্ববিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের নাম ও ছবি পাওয়া গেছে। একটি ছবিতে দেখা যায়, হকিং একটি আরাম কেদারায় শুয়ে হাতে ককটেল নিয়ে হাসছেন এবং তাঁর দুই পাশে বিকিনি পরিহিত দু’জন নারী রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই দুই নারী আসলে হকিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী সেবিকা, যারা তাঁর ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসা সহায়তার জন্য সর্বদা তাঁর সাথে থাকতেন।

ছবি: সংগৃহীত
ধারণা করা হচ্ছে, এই ছবিগুলো ২০০৬ সালের। ওই সময় হকিং সেন্ট টমাসের রিটজ-কার্লটন হোটেলে কোয়ান্টাম কসমোলজির ওপর একটি বৈজ্ঞানিক সিম্পোজিয়ামে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তিনিসহ ২১ জন বিজ্ঞানী সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’ ভ্রমণ করেন।

হকিংয়ের পরিবারের একজন প্রতিনিধি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-কে জানিয়েছেন, ছবিতে থাকা নারীরা যুক্তরাজ্য থেকে আসা হকিংয়ের দীর্ঘদিনের পেশাদার সেবিকা।

হকিংয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রফেসর হকিং মটর নিউরন ডিজিজের মতো ভয়াবহ ব্যাধির সাথে লড়াই করেও বিংশ শতাব্দীর পদার্থবিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ অবদান রেখেছেন। ভেন্টিলেটর, ভয়েস সিন্থেসাইজার এবং হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল একজন মানুষের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের ইঙ্গিত দেয়া শুধু ভুলই নয়, বরং অত্যন্ত অবান্তর।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সংগ্রহ করা এপস্টাইন ফাইলসে স্টিফেন হকিংয়ের নাম অন্তত ২৫০ বার এসেছে। ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামক এক অভিযোগকারী দাবি করেছিলেন, হকিং ভার্জিন দ্বীপে একটি ‘অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনৈতিক অনুষ্ঠানে’ অংশ নিয়েছিলেন। তবে এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন জেফরি এপস্টাইন।

২০১৫ সালে তাঁর সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে পাঠানো একটি ইমেইলে এপস্টাইন লিখেছিলেন, যারা জুফ্রের এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবে, তাদের যেন পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশেষ করে স্টিফেন হকিংকে নিয়ে তোলা অভিযোগটি প্রমাণহীন করার ওপর তিনি জোর দিয়েছিলেন।


উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের মার্চ মাসে এপস্টাইনের অর্থায়নে আয়োজিত ওই সম্মেলনে যোগ দিতেই হকিং সেখানে গিয়েছিলেন। এর ঠিক পাঁচ মাস পরেই ফ্লোরিডায় এপস্টাইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। আগের প্রকাশিত ছবিগুলোতে হকিংকে ওই দ্বীপে ডিনার করতে এবং একটি বিশেষভাবে তৈরি সাবমেরিনে করে সমুদ্রের তলদেশ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত জেফরি এপস্টাইনের সাথে হকিংয়ের সরাসরি কোনো ছবি পাওয়া যায়নি।

স্টিফেন হকিং ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনের ৫০ বছরেরও বেশি সময় তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এপস্টাইনের নথিতে তাঁর নাম আসলেও, অধিকাংশ তথ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি সেখানে শুধু একজন আমন্ত্রিত বিজ্ঞানী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে তাঁর সেবিকাদের উপস্থিতি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।