যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বিলাসবহুল হিলটন হোটেল, আলোকোজ্জ্বল চারপাশ, আর ডিনার টেবিলে মার্কিন মুলুকের রথী-মহারথীদের মেলা। কিন্তু কে জানত, সেই জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজই মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হবে! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ নৈশভোজের আসরে যা ঘটল, তা যেন কোনো রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারকেও হার মানায়।
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের বলরুমে তখন চলছে চাঁদের হাট। প্রায় ২৬০০ অতিথির কলকাকলিতে মুখর চারপাশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মঞ্চে আসীন। কিন্তু শনিবার রাতের সেই প্রশান্তি চুরমার হয়ে গেল একটি শটগানের গর্জন আর আতঙ্কে ভরা চিৎকারে।
সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ প্রবেশপথের তল্লাশি এলাকার কাছে বিকট শব্দে গুলি চলে। সিক্রেট সার্ভিসের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে শটগান থেকে গুলি ছোড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী। ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল সেই অফিসারের; বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা থাকায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরেন তিনি। কিন্তু সেই গুলির প্রতিধ্বনি যখন ডাইনিং হলে পৌঁছাল, বদলে গেল পুরো দৃশ্যপট।
মুহূর্তের মধ্যে অতিথিদের উচ্চহাস্য থামিয়ে দিয়ে চারদিকে কানফাটা চিৎকার শুরু হয়- ‘নিচে বসে পড়ুন!’। মুহূর্তের মধ্যে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। দামি স্যুট আর গাউন পরা হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঝানু কর্মকর্তারা প্রাণভয়ে টেবিলের নিচে সেঁধিয়ে গেছেন। ওয়েটাররা দিশেহারা হয়ে ছুটছেন ডাইনিং হলের সামনের দিকে।
গুলি চলার সাথে সাথেই মঞ্চের পেছনে নিচু হয়ে বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া। কালক্ষেপণ না করে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা তাঁদের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দ্রুত হলরুম থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। শুধু ট্রাম্প নন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় তাঁদের নিজ নিজ নিরাপত্তা দল।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গর্জে ওঠেন ট্রাম্প। তিনি নিশ্চিত করেন, তিনি এবং মেলানিয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন। পাশাপাশি এও জানান, সেই দুঃসাহসী বন্দুকধারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
বিবিসি’র সংবাদদাতার মতে, এই ধরনের মর্যাদাপূর্ণ নৈশভোজে এমন ভয়াবহ নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। বিশেষ করে দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম উপস্থিতিতেই এমন হামলা বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে।
বন্দুকধারীর নিশানায় কি তবে স্বয়ং প্রেসিডেন্টই ছিলেন? নাকি এটি শুধুই নিরাপত্তাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার কোনো চাল? সিক্রেট সার্ভিস তদন্ত শুরু করলেও, হিলটন হোটেলের সেই আতঙ্কিত রাত মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে দীর্ঘকাল আলোচনার খোরাক হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি-রয়টার্স-সিএনএন