যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক সম্পর্ককে নজিরবিহীনভাবে আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা নীরবে একটি প্রস্তাব এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যখন ইসরাইলের প্রতি মার্কিনিদের জনসমর্থন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং ফাটল দেখা দিচ্ছে।
এই সপ্তাহে প্রকাশিত ২০২৭ সালের ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট’-এর খসড়ায় ‘সেকশন ২২৪’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার শিরোনাম ‘ইউনাইটেড স্টেটস-ইসরাইল ডিফেন্স টেকনোলজি কোঅপারেশন ইনিশিয়েটিভ’ (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা উদ্যোগ)।
মার্কিন কংগ্রেস প্রতি বছর সামরিক নীতি নির্ধারণ এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের জন্য এই বিলটি পাস করে। চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার আগে এটি নিয়ে আরও বিতর্ক ও সংশোধনী আসবে। ইতিমধ্যে ক’জন আইনপ্রণেতা এর বিরোধিতা শুরু করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থমাস ম্যাসি জানান, বিলটি হাউসের ফ্লোরে এলে তিনি এই ধারাটি বাদ দেয়ার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব আনবেন।
প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পাস হলে এই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ওপর থেকে রাজনৈতিক তদারকি বা জবাবদিহিতার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে সম্পর্কটি কেবল আমেরিকার সামরিক সাহায্য দেয়ার চিরাচরিত মডেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক একীকরণ ঘটবে।
সমালোচকরা যুক্তি দিচ্ছেন, এমন পদক্ষেপের ফলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখাটা আর কোনো রাজনৈতিক দলের পছন্দের বিষয় থাকবে না, বরং এটি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা নীতির একটি স্থায়ী ও কাঠামোগত অংশ হয়ে উঠবে। যৌথ সামরিক ও শিল্প কর্মসূচির মধ্যে এই সম্পর্কটি এমনভাবে গেঁথে যাবে যে, ভবিষ্যৎ কোনো সরকারের পক্ষে তা সহজে ছিন্ন করা সম্ভব হবে না।
এই প্রস্তাবে কী কী রয়েছে?
'ট্র্যাক আইপ্যাক'-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রনি জ্যাকসনের উত্থাপিত ‘ইউএস-ইসরাইল ফিউচার অব ওয়ারফেয়ার অ্যাক্ট’ (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিগ্রহ আইন)-এর বিভিন্ন অংশ এই সেকশন ২২৪-এ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আইনটি একক বিল হিসেবে পাস হতে না পারায় এর মূল অংশগুলো কৌশলে বার্ষিক এই প্রতিরক্ষা বিলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ধারার অধীনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে এমন একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে, যিনি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি সমন্বয় করবেন। খসড়া আইন অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তার কাজ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ প্রয়াসগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা; যার মধ্যে "দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন, পরীক্ষা, মূল্যায়ন, একীকরণ এবং শিল্প সহযোগিতা" অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই আইনে সামরিক প্রযুক্তির এক বিশাল ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য ক্ষেত্র হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা (আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথের জন্য), সুরঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ হুমকি মোকাবিলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি।
এছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা গভীর করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিং ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, লেজার অস্ত্র ও উন্নত সেন্সিং, সাইবার প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও ডিজিটাল প্রতিরক্ষা এবং বায়োটেকনোলজি ও মেডিকেল ডিফেন্স।
বিশেষ করে নেটওয়ার্ক ইন্টিগ্রেশন (নেটওয়ার্ক একীকরণ) এবং ডেটা ফিউশনের (তথ্য সমন্বয়) অন্তর্ভুক্তি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। কারণ এটি নির্দেশ করে, দুই দেশের সামরিক তথ্য ও গোয়েন্দা ব্যবস্থা এখন একে অপরের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জুড়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইতিমধ্যেই ‘আয়রন ডোম’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে একসাথে কাজ করছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সেকশন ২২৪-এর ফলে এই সহযোগিতা উদীয়মান সামরিক প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হবে, যা দুই দেশের সামরিক অবকাঠামোকে চিরতরে পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে পারে।
কিংস কলেজ লন্ডনের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার মার্ক হিলবোর্ন আল জাজিরাকে বলেন, এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ঐতিহ্যগত ভিত্তিকে ছাড়িয়ে অনেক দূর নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন-ইসরাইল প্রতিরক্ষা সম্পর্ক মূলত সামরিক সাহায্য, অস্ত্র হস্তান্তর, আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং বা অ্যারো-র মতো যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচি এবং গোয়েন্দা ও পরিচালন সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি উদীয়মান প্রযুক্তির এক বিশাল ক্ষেত্রকে এর আওতাভুক্ত করছে। এটি অত্যন্ত নিবিড় একীকরণের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, এটি কেবল প্রযুক্তি বা সক্ষমতা শেয়ার করা নয়, বরং যৌথভাবে সেগুলো তৈরি করার বিষয়ে জোর দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে সম্পর্কটি আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। আমেরিকার রাজনৈতিক প্রশাসন পরিবর্তন হলেও এই সম্পর্ক টিকে থাকবে, কারণ সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়ন চক্রগুলো সাধারণত অনেক দীর্ঘমেয়াদী হয় এবং তা ব্যবস্থার মধ্যে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।
এটি কেন বিতর্কিত?
গাজায় ইসরাইলের চলমান নৃশংস যুদ্ধ এবং সেখানে মার্কিন অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে খোদ আমেরিকার ভেতরেই যখন তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই প্রস্তাবটি সামনে এলো।
মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত অক্টোবর থেকে তথাকথিত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সেখানে অন্তত ৮৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননেও আগ্রাসন চালাচ্ছে, যেখানে গত মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, এই যুদ্ধগুলোর কারণে ইসরাইলকে শর্তহীনভাবে সাহায্য করার বিষয়ে সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে সন্দেহ ও অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
গত মে মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে ইরানের ওপর সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যেখানে ৬৪ শতাংশ মানুষ একে ভুল সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স’-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ আমেরিকান কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। ৩৮ শতাংশ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরাইলে অস্ত্র পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ২৪ শতাংশ মনে করেন অস্ত্রগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর শর্ত আরোপ করে সাহায্য দেওয়া উচিত।
প্রথাগতভাবে ইসরাইলের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সুর উঠেছে।
সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেইলর গ্রিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, একটি বিদেশী সরকারের কাছে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করলে দেখতে কেমন হয়, এটি তার প্রমাণ; অথচ এর জন্য একটা গুলিও ছড়তে হয়নি।
ইসরাইলকে সামরিক সাহায্য দেওয়ার ঘোর বিরোধী আইনপ্রণেতা টমাস ম্যাসি এই ধারাটি বিল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সংশোধনী আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রাইমারি নির্বাচনে এই রিপাবলিকান নেতা পরাজিত হন, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরাইলপন্থী লবি গ্রুপগুলোর বিপুল অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
এমনকি প্রভাবশালী রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসনও ইদানীং ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কড়া সমালোচনা করছেন, যা ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের ভেতরের বিভক্তিকে স্পষ্ট করে। ডেমোক্র্যাট দলের বামপন্থী অংশও ইসরাইলে সামরিক সহায়তা বন্ধ বা সীমিত করার জন্য চাপ বাড়াচ্ছ।
বাস্তবে এর অর্থ কী দাঁড়াবে?
সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রস্তাবের ফলে দুই দেশ সামরিক উন্নয়ন ও অস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর এমনভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে যে তা থেকে বের হওয়া অসম্ভব হবে।
কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, এই ধরনের একীকরণের ফলে মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কের মূল সিদ্ধান্তগুলো আর প্রকাশ্য বাজেট ভোট বা বাণিজ্যিক চুক্তির মধ্যে থাকবে না। এটি চলে যাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রতিরক্ষা ক্রয় এবং শিল্প অংশীদারিত্বের এক অন্ধকার ও অস্বচ্ছ জগতে, যা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকবে।
কিংস কলেজের গবেষক হিলবোর্ন বলেন, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদি যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে আরও কার্যকর প্রযুক্তি তৈরি হয়, তবে নজরদারি ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় যান, এআই টার্গেটিং এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
তিনি যোগ করেন, এর ফলে গাজা বা পশ্চিম তীরে দায়িত্বরত ইসরাইলি বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। এই একীকরণ ইসরাইলি বাহিনীর ভেতরে মার্কিন প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও স্থায়ী রূপ দেবে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ।
সমালোচকরা এর অর্থনৈতিক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেছেন। যৌথ উৎপাদনের চুক্তি বাড়ার কারণে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা তৈরি হবে এবং সামরিক খাতের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা আমেরিকার অর্থনীতিকে ইসরাইলের সাথে আরও বেশি বেঁধে ফেলবে।
হিলবোর্ন আরও যুক্তি দেন , এই গভীর একীকরণের ফলে ইসরাইলের ওপর ওয়াশিংটনের যে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব রয়েছে, তা হ্রাস পেতে পারে। "যুক্তরাষ্ট্র যখন চাইলেই ইসরাইলকে কোনো প্রযুক্তি বা অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করতে পারবে না, তখন ইসরাইলের ওপর মার্কিন লিভারেজ বা চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা কমে যাবে। ফলস্বরূপ, ইসরাইল তাদের আগ্রাসী নীতি বাস্তবায়নে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।"
লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমাদ সালামেহ আল জাজিরাকে বলেন, এই প্রস্তাবের প্রভাব কেবল মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা একীকরণকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর লক্ষ্য হলো সম্পর্ক স্বাভাবিক করার গণ্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-সমর্থিত এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ইসরাইল হবে মূল সামরিক ও প্রযুক্তিগত কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বলেন, এমন একটি কাঠামো তৈরি হলে তা ইরানকে ঠেকিয়ে রাখতে, এই অঞ্চলে তুরস্কের স্বাধীন প্রভাব সীমিত করতে এবং আরব দেশগুলোর সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীর করতে সাহায্য করবে। লেবানন এবং গাজার জন্য এর অর্থ হতে পারে, উদীয়মান মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইসরাইলের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা শর্তগুলো মেনে নেয়ার জন্য তাদের ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি হবে।
আইন প্রণয়নের এই দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়ায় ‘সেকশন ২২৪’ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এনডিএএ বিলে এর অন্তর্ভুক্তি স্পষ্ট করে দেয়, ইসরাইলপন্থী লবি গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ এর সমর্থনে কিছু রাজনীতিবিদ কীভাবে দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে চিরতরে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রশাসন চাইলেও এই দীর্ঘমেয়াদী সামরিক-শিল্প বন্ধন ছিন্ন করতে না পারে।