ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনা

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য আলোচনা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তর আমেরিকায় নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের আগেই ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক আরোপ এড়াতে দুই পক্ষ আশাবাদী হলেও, শেষ পর্যন্ত অটোয়া ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সমঝোতা আলোর মুখ দেখেনি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, প্রতিবেশীরা এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যা তাঁদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, এর ফলে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং কানাডার প্রতিনিধিদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি।

US-Canada 01
বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। এর জবাবে মার্ক কার্নি ঘোষণা দেন, কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসা রক্ষা করতে অটাবাও সমান হারে অর্থাৎ ‘ডলারের বিপরীতে ডলার’ হিসেবে একই পরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে।

কার্নি আরও জানান, সরকার দেশীয় ব্যবসা ও শ্রমিকদের সহায়তায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে। ইতোমধ্যে গত ১৮ মাসে ২৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কানাডার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং কোনো দেশকেই তারা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে দেবেন না।

US-Canada 03
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রিয়ার সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, অটোমোবাইল ও কাঠের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানোসহ একটি ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে কানাডা নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করেছে এবং পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে আলোচনার ভারসাম্য নষ্ট করেছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট করেন, শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের আনা শর্তের পরিবর্তনগুলো ছিল অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর, যা কোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে ফেরার পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বৃদ্ধি পায়। ওয়াশিংটন কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও অটোমোবাইল শিল্পে শুল্ক বসালে কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। ট্রাম্প বিশেষ করে কানাডার দুগ্ধ খাতের ওপর কোটা ব্যবস্থা এবং মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রিতে প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ ছিলেন।

US-Canada 02
বর্তমানে কার্যকর হওয়া শুল্কের আওতায় এসেছে প্রায় ৫০০টির মতো কানাডীয় পণ্য, যার পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এটি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক কানাডা থেকে বার্ষিক আমদানিকৃত মোট পণ্যের প্রায় ৫ শতাংশ। আপাতত ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার জ্বালানি সম্পদ, অতি প্রয়োজনীয় খনিজ ও মাছের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতামুক্ত রেখেছে।

ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপ করতে ১৯৩০ সালের ‘সেকশন ৩৩৮’ নামের একটি বিরল ও প্রায় অব্যবহৃত আইন প্রয়োগ করছেন। প্রচলিত বাণিজ্য আইনের মতো এতে শুল্কের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না; অর্থাৎ মার্কিন প্রশাসন না তোলা পর্যন্ত এই শুল্ক অনিশ্চিত কালের জন্য বহাল থাকতে পারে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনি পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, তবে এই সংঘাত উত্তর আমেরিকার সার্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করল।

তথ্যসূত্র: সিএনএন